রাজধানীর বনানীতে রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক সিদ্দিক হোসেন মুন্সি হত্যার ঘটনায় তদন্তে মাঠে নেমেছে গোয়েন্দা পুলিশ। হত্যাকারীরা যেকোন সময় গ্রেপ্তার হতে পারে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র। এর আগে হত্যাকাণ্ডের নয়দিনের মাথায় হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় তারা।
নিহতের পরিবারের দাবি: এমন হাসি খুশি মানুষের কখনো শত্রু থাকতে পারে না। হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে তারা।
রাজধানীর বনানীর বি ব্লকের চার নম্বর রোডের একটি বাসায় মুন্সি ওভারসিজ নামের একটি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক ছিলেন সিদ্দিক হোসেন মুন্সী। গত ১৪ নভেম্বর রাত ৮টার দিকে চারজন দুর্বৃত্ত এসে সিদ্দিক হোসেন মুন্সীকে নিজ অফিসে গুলি করে হত্যা করে।
ওই সময় আহত হয় অফিসের তিনজন সহকারী মির্জা পারভেজ, মোখলেসুর রহমান ও মো. মোস্তাফিজুর রহমান। ওই ঘটনায় ১৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় বনানী থানায় অজ্ঞাতনামা চারজনকে আসামি করে হত্যা মামলাটি করেন নিহতের স্ত্রী জোৎস্না বেগম।
হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সর্বশেষ অগ্রগতি জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায় বৃহস্পতিবার বিকেলে চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: বুধবার বনানীর রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক হত্যাকাণ্ডের মামলাটির পূর্ণ তদন্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গোয়েন্দা পুলিশকে। অবশ্য এ হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই গোয়েন্দা পুলিশ ছায়া তদন্ত করে আসছিল।
গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: ইতোমধ্যে বনানী হত্যাকাণ্ডের অগ্রগতি অনেক এগিয়েছে, আমরা সব বিষয় মাথায় রেখেই তদন্ত কাজ শুরু করেছি, যেকোন সময় হত্যাকারীরা গ্রেপ্তার হতে পারে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ মুুহুর্তে আর বেশি কিছু বলা যাবে না।
হত্যাকাণ্ডের পর গোয়েন্দা পুলিশের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেছিলেন: সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গিয়েছে কিলিং মিশনটি ছিল আড়াই মিনিটের।

হত্যা মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পরেই গতকাল রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক সিদ্দিক হোসেন মুন্সি’র পরিবারকে তলব করে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।
নিহত সিদ্দিক হোসেন মুন্সী’র ছোট ভাই আব্দুল লতিফ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: আমার ভাইয়ের হত্যার দশদিন পার হতে চলল, এখনো হত্যাকারীদের ধরতে পারেনি পুলিশ। গতকাল গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত নেওয়ার পরই আমাদের তলব করে, আমরা গোয়েন্দা কার্যালয়ে তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি। তারা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে, কেউ আমাদের হুমকি দিয়েছিল কি না, আমরা কাউকে সন্দেহ করি কি না এসব বিষয়ে মূলত কথা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের তদন্তে অগ্রগতি বিষয়ে জানতে চাইলে বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আব্দুল মতিন বলেন: আমরা হত্যাকাণ্ডের তদন্তের ব্যাপারে অনেকদূর এগিয়েছি। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ওই চার হত্যাকারীকেই শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের নাম, ঠিকানা ও ছবি আমরা পেয়েছি। অবস্থান শনাক্ত করতে প্রযুক্তিগত সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।
হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব ছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন: এগুলো হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করলেই জানা যাবে।
অন্যান্য ম্যানপাওয়ার রিক্রুটিং এজেন্সী ব্যবসায়ীদের পুলিশের পক্ষ থেকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে কি না জানতে চাইলে আব্দুল মতিন বলেন: রিক্রুটিং এজেন্সী ঘিরে এরকম নৃশংস ঘটনা যেন না ঘটে সে ব্যাপারে তৎপর রয়েছে পুলিশ।
সিদ্দিক হোসেন মুন্সি’র সঙ্গে কারো ব্যবসায়িক কোন দ্বন্দ ছিল না জানিয়ে তার জামাতা আবু হানিফ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: আমি এক বছর ধরে অফিসে কাজ করছিলাম, কখনো কোন ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব দেখিনি, তিনি কোন দ্বন্দ্ব পছন্দ করতেন না, এসব এড়িয়ে চলতেন।
‘আমরা ভাবতেই পারি না ওনার মতো কেউ খুন হতে পারে। হত্যকারীদের আইনের আত্ততায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করা ছাড়া আর কিছুই আমাদের করার নেই।’
নিহত সিদ্দিক হোসেন মুন্সি উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের একটি বাসায় স্ত্রী জোৎস্না বেগম, দুই মেয়ে সাবরিনা সুলতানা ও সাবিহা সিদ্দিক এবং ছেলে মেহেদী হাসানকে নিয়ে বসবাস করতেন। তার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের কালিহাতি গ্রামে।










