বদর প্রধান মতিউর রহমান নিজামীর ভাগ্য নির্ধারণের দিন আজ বৃহস্পতিবার। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানকে সহযোগীতা করা তৎকালিন ইসলামি ছাত্র সংঘের এই সভাপতির মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে করা রিভিউ আবেদনের রায় প্রদান করবেন আপিল বিভাগ।
কার্যতালিকার প্রথম দিকে থাকলেও বেলা ১১টার পরে রায় ঘোষিত হতে পারে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
রায়ে ফাঁসির আদেশ বহাল থাকলে শুধু রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমাপ্রার্থনার সুযোগটুকুই পাবে বিগত চারদলীয় জোট সরকারের সময় শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা নিজামী। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শাহবাগে থাকার ঘোষণা দিয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ।
প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর সমন্বয়ে গঠিত চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ গত মঙ্গলবার রায় প্রদানের সময় জানিয়ে দেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পাবনায় হত্যা, ধর্ষণ এবং বুদ্ধিজীবী গণহত্যার দায়ে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর নিজামীকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে তা আংশিক মঞ্জুর করে এ বছরের ৬ জানুয়ারি ফাঁসির দণ্ড বহাল রাখে সর্বোচ্চ আদালত। আড়াই মাস পর সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ১৫৩ পাতার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়, যেখানে গণহত্যা, ধর্ষণ এবং অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধের তিন অভিযোগে নিজামীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার কারণ ব্যাখ্যা করেন আপিল বিভাগ। আপিলের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) জন্য ২৯ মার্চ আবেদন করে নিজামী। শুনানি শেষে রায় প্রদানের মাধ্যমে যার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি ঘটবে বৃহস্পতিবার।
এর মধ্যে গত ১৫ মার্চ মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিপক্ষে নিজামীর আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। সেদিনই ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো মৃত্যু পরোয়ানা একদিন পর নিজামীকে পড়ে শুনানো হয়। আইন অনুযায়ী রিভিউ আবেদনের শেষ সময় ৩০ মার্চ’এর একদিন আগে করা ৭০ পৃষ্ঠার আবেদনে ৪৬টি কারণ দেখিয়ে নিজামীর পক্ষে রায় পুনর্বিবেচনা চাওয়া হয়।
যে তিন অভিযোগে ফাঁসি
১. স্থানীয় শান্তি কমিটির সদস্য ও রাজাকারদের উপস্থিতিতে একাত্তুরের ১০ মে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার বাউশগাড়ি গ্রামের রূপসী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় শিঘ্রই পাকিস্তানি সেনারা শান্তি রক্ষার জন্য আসবে বলে জানান নিজামী। সভার পরিকল্পনানুযায়ী ১৪ মে ভোড় ৬টা দিকে বাউশগাড়ি, ডেমরা ও রূপসী গ্রামের সাড়ে চারশো মানুষকে পাকিস্তানি সেনারা হত্যা করে এবং প্রায় ৩০-৪০ জন নারীকে ধর্ষণ করে সেনা ও রাজাকাররা।
২.পাবনার ধুলাউড়ি গ্রামে নিজামীর নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের খুঁজতে গিয়ে ১৯৭১ সালের ২৭ নভেম্বর ডা. আব্দুল আউয়াল ও অন্যান্য বাড়িতে হামলা চালিয়ে নারী-পুরুষ-শিশুসহ ৫২ জনকে হত্যা করে পাকিস্তানি সেনা ও রাজকার বাহিনী।
৩.বাংলাদেশের বিজয়ের প্রাক্কালে অসংখ্য বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করে পাকিস্তানের দোসর আলবদর বাহিনী। ইসলামী ছাত্রসংঘ ও আলবদর বাহিনীর প্রধান হিসেবে যার দায় নিজামীর।








