‘নিখোঁজ’ সাংবাদিক পিতার সঙ্গে ৫৩ দিন পরে পুত্রের সাক্ষাত

পুত্রের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য অপেক্ষমাণ নিখোঁজ সাংবাদিকের ছবি, যেখানে দেখা যাচ্ছে পুত্র ও পিতা একে অপরের সঙ্গে মিলিত হচ্ছেন।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ
নিখোঁজ হওয়ার ৫৩ দিন পরে পিতা ফটো সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলের দেখা পেলেন তার সন্তান মনোরম পলক।
রোববার দুপুর তিনটায় যশোর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেড আদালতে পিতা পুত্রের দেখা মিলে। এসময় পিতা শফিকুল কাজলকে বুকে জড়িয়ে নেন সন্তান মনন।
এ রিপোর্ট লেখার আগ পর্যন্ত যশোর আদালতে কাজলের জামিন শুনানি চলছিল। এরআগে দুপুর তিনটায় বেনাপোল বিজিবির দায়ের করা অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে একটি মামলায় সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলকে যশোর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়।
এর আগে পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন খান ও নাভারন সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) জুয়েল ইমরান তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। স্থানীয় কোন সংবাদকর্মীকে এ বিষয়ে বক্তব্য প্রদানে অপরাগতা প্রকাশ করে পুলিশ।
পুলিশের একটি সূত্রে জানায়, সাংবাদিক কাজলকে বেনাপোল থেকে যশোর পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
শনিবার রাতে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরের জিরো পয়েন্ট থেকে নিখোঁজ শফিকুল ইসলাম কাজলকে আটক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের রঘুনাতপুর ক্যাম্পের ইনচার্জ হাবিলদার আছের আলী চ্যানেল আই অনলাইনকে জানান: রাত পৌনে একটার দিকে তিনি বেনাপোল আন্তর্জাতিক শূন্যরেখায় আসেন। পরে বিজিবি সদস্যরা তাকে আটক করে অবৈধ অনুপ্রবেশ আইনে মামলা দিয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করে।
ফটোসাংবাদিকতার পাশাপাশি ‘পক্ষকাল’র সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করছিলেন শফিকুল ইসলাম কাজল। গত ১০ মার্চ বুধবার দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে বাসা থেকে বের হন। আনুমানিক রাত ৮টার থেকে তার দু’টি মুঠোফোনই বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর থেকে তিনি আর বাড়ি ফিরে আসেননি।
বিকাল ৫টা ৫৯ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটের মধ্যে তিনজন ব্যক্তি আলাদা আলাদাভাবে মোটরবাইকটির কাছে যায় এবং অযাচিত হস্তক্ষেপ করে। এরপর ৬টা ১৯ মিনিটে কাজলকে অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে অফিস থেকে বের হয়ে নিজের বাইকের পাশ দিয়ে হেঁটে যেতে দেখা যায়। পরে তিনি ফিরে আসেন এবং সন্ধ্যা ৬টা ৫১ মিনিটে একা বাইকে চড়ে চলে যান।তারপর থেকেই কাজলের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, একটি মহল তার পেশাগত কাজে ক্ষুব্ধ ছিলেন। এমনকি তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে মামলাও করা হয়।
ঘটনার পরের দিন ১১ মার্চ চকবাজার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তার স্ত্রী। পরে ১৮ মার্চ রাতে কাজলকে অপহরণ করা হয়েছে অভিযোগ এনে চকবাজার থানায় মামলা করেন তার ছেলে মনোরম পলক।
তবে নিখোঁজের ঠিক ৩০তম দিনে (৯ এপ্রিল) ফটোসাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলের ফোন নম্বরটি বেনাপোলেই চালু হয়েছিল। তখন কাজল নিখোঁজের বিষয়টির তদন্ত কর্মকর্তা চকবাজার থানার এসআই মুন্সী আবদুল লোকমান বলেছিলেন, নিখোঁজ সাংবাদিক কাজলের ফোন নম্বরটি চালু হয়েছিল। লোকেশন দেখিয়েছে বেনাপোল। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে ও নম্বরটি চালু থাকার সময় কম হওয়ায় বেনাপোলে কোনো অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি।






