শৈশব থেকে তার ভাবসাবই অন্যরকম। চলাফেরা আর কথা বলার ভঙ্গির মধ্যে আলাদা একটা ঢঙ। যেমনটা নাটক সিনেমার নায়িকাদের ক্ষেত্রে দেখা যায়। এর জন্য তাকে কম টিপ্পনি কাটেনি সহপাঠিরা ও পাড়ার ছেলেরা। এমনকি পরিবারের মানুষজনদের কাছ থেকে রীতিমত ধমক খেতে হয়েছে তাকে। সে ভাব কি আর গেছে? আজন্ম সেই ভাব তার পেশাদারিত্বে রূপ নিয়েছে। তিনি চলচ্চিত্রের নতুন মুখ আলভিরা ইমু। নবাগত এই নায়িকা চ্যানেল আই অনলাইনের কাছে তার শৈশব কৈশোরের সেই কথাই জানান। তিনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমার নায়িকা হওয়ার শখ। এর জন্য বলিউডের নায়িকাদের ফলো করতাম। চলন বলনেও তা–ই করতাম। মাঝে মাঝে আয়নায় নিজেকে দেখে নিজেই বলে উঠতাম, এহ, নায়িকা নায়িকা ভাব!’
ভাব যাই থাকুক, ইমু কখনো ভাবেননি, একদিন চলচ্চিত্রে সত্যি সত্যি তিনি নায়িকা হবেন। পরিস্থিতিও তেমন ছিল না। শুরুতে স্কুলে থাকতেই তিনি র্যাম্প মডেলিংয়ের সাথে যুক্ত হন। কখনো স্কুল পালিয়ে কখনো টিচারের কাছে পড়ার নাম করে তিনি র্যাম্প মডেলিংয়ের শো করতেন। ইমু বলেন, ‘এভাবেই চলছিল। কিন্তু একদিন মায়ের কাছে ধরা পড়ে যাই। মা আমাকে অনেক বকা দিলেন। মন খারাপ হয়েছিল। কিছুদিন বন্ধও ছিল মডেলিং। তারপর আবার গোপনে র্যাম্প মডেলিং শুরু করি।’

এটা ছিল ইমুর শুরুর গল্প। আলভিরা ইমুর এখনো বড় পর্দায় অভিষেক না হলেও কয়েকটি ছবির কাজ করছেন। ইমু বলেন, ‘চলচ্চিত্র পরিচালক শাহ আলম মন্ডলের সঙ্গে ঘটনাচক্রে পরিচয়। তিনি আমাকে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন। ছবিতে আমার নায়ক হবেন শাকিব খান। ছবির নাম “জানে মন তুই জীবন”। এ ছবিতে আমার সঙ্গে শাকিবের নাম শুনে কিছুটা রোমিাঞ্চত হলেও পরিবারের কথা ভেবে তখনই রাজি হইনি। পরে ছোট বোনের সহযোগিতা নিয়ে মাকে রাজি করিয়েছি।’
‘প্রথম ছবি শাকিব খানের সঙ্গে, এটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া ছিল। কিন্তু ছবিটা শেষ হলো না। ব্যক্তিগত কারণে ছবিটা শেষ করতে পারিনি। দেশের বাইরে চলে গিয়েছিলাম। পড়াশোনার চাপ বেড়ে যায়। সবমিলিয়ে ছবিটা শেষ করা হয়নি। ছবির কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৫ সালে। অর্ধেকের বেশি কাজ হয়েছিল। এখন বাকি কাজটা হবে কিনা, সেটা নির্ভর করছে পরিচালক ও প্রযোজকের ওপর।’ বললেন ইমু।

কয়েকটি ছবিতে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন ইমু। এর মধ্যে কয়েকটি ছবির কাজ শুরু হয়েছে। ছবিগুলো হলো ‘গোপন সংকেত’, ‘খুশি’, ‘এক রাতের জন্য’, ‘ফালতু’ ও ‘জেনারেশন গ্যাপ’।
আলভিরা ইমু এখন ‘গোপন সংকেত’ ছবির কাজ নিয়ে ব্যস্ত। ছবিটি পরিচালনা করছেন তাজুল ইসলাম। ইমুর বিপরীতে এ ছবিতে অভিনয় করছেন সায়মন সাদিক। সাইবার ক্রাইম নিয়ে এ ছবির গল্প। এর বেশির ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। চলছে শাহ আলম মন্ডলের ‘খুশি’ ছবির শুটিং। এতে ইমু একজন অস্বাভাবিক মেয়ে। এছাড়া শিগগিরই অপূর্ব রানার ‘এক রাতের জন্য’ ও ওয়াজেদ আলী সুমনের ‘ফালতু’ ছবির শুটিং শুরু হবে। এবার মোশাররফ করিমের বিপরীতে অভিনয় করবেন ইমু।

ইমু বলেন, ‘জি এম সারওয়ারের “জেনারেশন গ্যাপ” নামে নতুন একটি ছবিতে অভিনয়ে জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। এতে আমার নায়ক হিসেবে আছেন আলমগীর ও আরিফিন শুভ। আমি আলমগীরের বিপরীতে অভিনয় করব, এটা ভেবেই ভালো লাগছে। ছবির গল্প শোনার পর থেকেই মনে হয়েছে, ভালো একটি কাজ হতে যাচ্ছে। দুই প্রজন্মের সঙ্গে আমার প্রেম চলে। একজন আলমগীর অন্যজন আরিফিন শুভ।’
প্রেম কিংবা বিয়ে নিয়ে সবার মধ্যেই একটা লুকোচুরির ব্যাপার থাকে। তবে ইমু তার ধারে কাছেও নেই। বললেন, ‘আমি একজনকে ভালোবাসি। সে দেশের বাইরে থাকে। আমাদের মধ্যে বোঝাপড়াটা ভালো। এ কারণে বিয়ে হলেও ছবিতে অভিনয় বন্ধ হবে না। আর আমি চাই চলচ্চিত্রে প্রতিষ্ঠিত হতে। তবে নায়িকা হিসেবে যতটা না, তার চেয়ে বেশি অভিনেত্রী হিসেবে।’

ছবি : সংগৃহীত








