আজ ২০ জুলাই শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ হেনা দাসের মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৯ সালের এই দিনেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন তিনি।
১৯২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সিলেট শহরে তার জন্ম। তাঁর বাবা আইনজীবী রায় বাহাদুর সতীশচন্দ্র দত্ত এবং মা মনোরমা দত্ত। ছাত্র জীবনেই হেনা দাস স্বদেশী আন্দোলন এবং পরে ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলন ও সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে যোগ দেন। বহুমাত্রিক এক জীবনের নানান সময়ে এই নারীনেত্রী যুক্ত ছিলেন নানান সংগঠনের সঙ্গে।
১৯৪২ সালে হেনা দাস কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন। ১৯৪৮-৪৯ সালে তিনি সিলেটের নানকার কৃষক আন্দোলনে যোগ দেন এবং চা বাগানের নারী শ্রমিকদের সমন্বয়ে ট্রেড ইউনিয়ন গড়ে তোলেন।
১৯৫৮ সালে ঢাকা এসে সহকারি শিক্ষক হিসেবে গেন্ডারিয়ায় মনিজা রহমান বালিকা বিদ্যালয়ে যোগ দেন তিনি। ১৯৬১ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত তিনি নারায়ণগঞ্জ গার্লস হাইস্কুলে শিক্ষকতা করেন। এ সময় তিনি শিক্ষক সমিতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ১৯৬৫-১৯৬৮ সালে তিনি মহাখালী ওয়ারলেস স্টেশন স্কুলে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ সালে তিনি পুনরায় নারায়ণগঞ্জ গার্লস হাইস্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।
১৯৭১ সালের মার্চ মাসে হেনা দাস শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে অসহযোগ আন্দোলনে অংশ নেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি কলকাতায় গিয়ে সকল স্তরের শিক্ষকদের নিয়ে ‘উদ্বাস্তু শিক্ষক সমিতি’ গড়ে তোলেন।
১৯৭৭ সালের ৫ মে ঢাকার শিক্ষক সমিতির আন্দোলনে অংশগ্রহণ করার অপরাধে ৫৪ জন শিক্ষকসহ গ্রেপ্তার হন হেনা দাস এবং তিন দিন কারাভোগের পর মুক্তি পান। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি।
হেনা দাসের উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে রয়েছে উজ্জ্বল স্মৃতি, আমার শিক্ষা ও শিক্ষকতা জীবন, স্মৃতিময় দিনগুলো, নারী আন্দোলন ও কমিউনিস্ট পার্টির ভূমিকা, স্মৃতিময়-৭১, পঞ্চম পুরুষ এবং তার আত্মজীবনী চারপুরুষের কাহিনী।
বহুমাত্রিক অবদানের জন্য তিনি রাষ্ট্র প্রদত্ত রোকেয়া পদক ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, আহমদ শরীফ ট্রাস্টসহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে পদক ও সম্মাননা লাভ করেন।







