কলকাতা নাইট রাইডার্সের সুনীল নারিনকে দেখে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন তাইজুল ইসলাম। এই টাইগার স্পিনারও সম্প্রতি ব্যাটসম্যান হিসেবে আবির্ভুত হয়ে আলোচনায় এসেছেন। তাইজুল লিগের সবশেষ রাউন্ডে পারটেক্সের সঙ্গে বল হাতে দুই উইকেট নেয়ার পর ৫১ বলে ৫৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। তাতেই নিশ্চিত হারের সামনে থেকে ফিরে ম্যাচ জেতে ঐতিহ্যবাহী ক্লাব মোহামেডান।
এমন ব্যাটিংয়ের রহস্য জানাতে গিয়ে তাইজুল দিলেন বিস্ময়কর তথ্য। স্পিনার হিসেবে পাদপ্রদীপের আলোয় এলেও তাইজুলের বয়সভিত্তিক ক্রিকেট শুরু নাকি ওপেনিং ব্যাটসম্যান হিসেবে।
‘অনূর্ধ্ব-১৫ দলে ওপেনিং ব্যাটসম্যান ছিলাম। অনূর্ধ্ব-১৮ এর বিভাগীয় পর্যায়ের খেলায় অনেক উইকেট পাই। অনূর্ধ্ব-১৯ এ চলে আসি বোলার হিসেবে। মনে হল ব্যাটিং-বোলিং দুইটা দিক সামলানো কঠিন হয়ে যাবে। তাই তখন থেকে বোলিংয়ে বেশি মনোযোগ দিতে শুরু করি।’
ব্যাটিংয়ে ছন্দ ফিরে পাওয়ায় অলরাউন্ডার হওয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানালেন তিনি, ‘বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিং ভাল হলে সব ফরম্যাটে খেলা সহজ হয়। চেষ্টা করব তিন সাইডেই ভাল করে ওয়ানডে টিমে ঢোকার। মোহামেডান কোচ আমাকে নেটে ব্যাটিং করার সুযোগ দেন। আমি আসলে সলিড ব্যাটসম্যান নই। ওপেনিং করতাম সেই ১০ বছর আগের কথা।’
এবারের আইপিএলে বোলার থেকে হঠাৎ ওপেনিং ব্যাটসম্যান বনে গেছেন কলকাতার হয়ে খেলা ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটার সুনীল নারিন। তাইজুল বললেন তাকে দেখে তিনিও অনুপ্রাণিত হচ্ছেন।
‘এই মুহূর্তে যদি বলা হয় আমার কাছে মনে হয় না আমি পারব। কিন্তু আজ থেকে ৬-৭ মাস বা একবছর পর যদি হয় আমি পারব, সে আত্মবিশ্বাস আমার আছে। নারিনের ব্যাটিং অবশ্যই অনুপ্রাণিত করে। তাকে সুযোগ দেয়া হয়েছে, সে সাকসেসও হয়েছে।’
ব্যাটিং নিয়ে কিছুটা চিন্তা-ভাবনা মাথায় থাকলেও তাইজুলের আসল চিন্তা বোলিং নিয়েই। ২৫ বছর বয়সী এই বাঁহাতি স্পিনার মনে করেন ক্রিকেটার হিসেবে পরিণত হতে বয়সের প্রভাব থাকে, ‘আমার যখন ২৮-৩০ বছর বয়স হবে তখন আমার বোলিং আরও ভাল হবে। যখন নাইনটিনে খেলেছি ‘এ’ দলে খেলেছি ওই সময় আর এখনকার সময়ের মেধায় অনেক পার্থক্য। সময় গেলে হয়তো আরও পরিণত হব।’
‘তখন বুঝতে পারবো ব্যাটসম্যান কী করতে চাইছে। টানা এক জায়গায় বোলিং করার দক্ষতা তৈরি হবে। এখন যে ঘাটতি আছে সেটি পুষিয়ে নিতে আরও সময় লাগবে। যখন নিজেকে ওই পর্যায়ে নিতে পারবো তখন আর চিন্তা করতে হবে না। বাংলাদেশকে সব ফরম্যাটেই একটানা দশ বছর সার্ভিস দিতে পারবো,’ তাইজুল যেন বলতে চাইলেন তার চোখ অনেক দূরে।







