নাভালনির জন্য রাশিয়ার রাস্তায় রাস্তায় বিক্ষোভ

রাশিয়ার রাস্তায় নাভালনির মুক্তির দাবিতে ব্যাপক জনসমাগম ও বিক্ষোভ, যেখানে মানুষ মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট চালাচ্ছে।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কড়া সমালোচক বিরোধীদলীয় নেতা কারাবন্দি অ্যালেক্সেই নাভালনির জন্য রাশিয়াজুড়ে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে।
কয়েক সপ্তাহ ধরে অনশন করছেন নাভালনি। অননুমোদিত এই র্যালিতে নাভালনিকে সঠিক চিকিৎসা দেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়।
দেশজুড়ে অন্তত ১০০০ বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ।
গত ফেব্রুয়ারি থেকে আটক রয়েছেন ৪৪ বছর বয়সী নাভালনি। তিনি পিঠে ব্যথা ও পায়ের অসাড়তার জন্য চিকিৎসা চাইছিলেন। চিকিৎসা না পেয়ে কারাবন্দি অবস্থায় অনশন শুরু করেন নাভালনি।
নাভালনির জন্য সবচেয়ে বড় বিক্ষোভটি হয়েছে মস্কোতে। অন্যান্য বড় শহরেও বেশ কিছু প্রতিবাদ হয়েছে।
বিরোধীদলের আশা ছিলো বুধবারের ওই বিক্ষোভ বিগত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হবে। কিন্তু সেটা আসলে নাভালনি যখন কারাবন্দী হয়েছিলো তখনকার থেকে ছোট বিক্ষোভ ছিলো।
পুলিশ জানিয়েছে, ২৯টি শহরে ১৪ হাজার মতো মানুষ বিক্ষোভ করেছে। তার মধ্যে মস্কোতেই একত্রিত হয় ৬০০০ বিক্ষোভকারী।
পরিদর্শক দলের গণনায় যদিও সঠিক বিক্ষোভকারীর সংখ্যাটা পুলিশের বলা সংখ্যার থেকে অনেক বেশি। ওভিডি ইনফো নামের একটি দল জানিয়েছে দেশব্যাপী ১০০০ জনকে আটকই করা হয়েছে।
অনশনরত নাভালনির রক্ত পরীক্ষার ফলাফল দেখে চিকিৎসকেরা বলেছেন, যেকোনো সময় নাভালনির হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে অথবা কিডনি বিকল হয়ে যেতে পারে।
গত ফেব্রুয়ারিতে জার্মানি থেকে দেশে ফেরামাত্র বিমানের গতিপথ ঘুরিয়ে অনেক নাটকীয়তার মাধ্যমে নাভালনিকে আটক করে রাশিয়ার সরকার। বিষপ্রয়োগে হত্যাচেষ্টার শিকার হয়ে জার্মানিতে জরুরি চিকিৎসা নিতে যান তিনি।
২০২০ সালের অগাস্টে একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে সার্বিয়া থেকে মস্কো ফেরার সময় এককাপ চা পানের পরই অসুস্থ হয়ে কোমায় চলে গিয়েছিলেন ৪৪ বছর বয়সী নাভলনি। বিমানবন্দর থেকে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
অবস্থার পরিবর্তন না হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জার্মানি নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই পরীক্ষায় জানা যায়, সোভিয়েত আমলে তৈরি বিষাক্ত নার্ভ এজেন্ট নোভিচক দিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল।
তিনি এই বিষপ্রয়োগের ঘটনায় প্রেসিডেন্ট পুতিনকে নির্দেশদাতা হিসেবে সন্দেহ করেন। রুশ সরকার অবশ্য এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।






