আক্রমনের ষ্টাইল, আঘাতের ধরণসহ অন্যান্য আলামত দেখে তদন্তকারী গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ধারণা করছেন অনলাইন অ্যাকটিভিষ্ট নাজিমুদ্দিন সামাদকে হত্যা করেছে জঙ্গিরা। তবে জঙ্গিদের কোন গ্রুপ ওই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি এখনও।
ওয়ারি অপরাধ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার সৈয়দ নূরুল ইসলাম বলেছেন, এখন পর্যন্ত কোন জঙ্গি গ্রুপ ওই হত্যাকাণ্ডের দায় দায়িত্ব স্বীকার না করলেও আমাদের ধারণা হত্যাকাণ্ডের পেছনে জঙ্গি সম্পৃক্ততা রয়েছে। আর ব্যক্তিগত কারণে হত্যা হতে পারে এমন কোন ক্লু আমাদের হাতে নেই।
দুই দিনেই ওই ঘটনায় এক জনকেও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ ও গোয়েন্দারা। তবে জঙ্গি সন্দেহে আটক করে জিঞ্জাসাবাদ করা হচ্ছে দুই জনকে। খোঁজা হচ্ছে সন্দেহভাজন আরও একজনকে।
ছায়া তদন্তকারী গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, ঢাকা থেকে নয় আগে থেকেই টার্গেট ছিলেন সিলেট গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী অনলাইন অ্যাকটিভিষ্ট নাজিমুদ্দিন সামাদ।
ডিএমপি ডিবির ডেপুটি কমিশনার মাহবুব আলম জানান, ফেসবুকের লেখার কারণ ছাড়াও আরও কোন কারণে হত্যার টার্গেট হতে পারেন ওই অনলাইন অ্যাকটিভিষ্ট।
তিনি আরো বলেন, কোন জঙ্গী গ্রুপ সাধারণত হত্যাকাণ্ডের সময় নিজেদের নিরাপত্তার কারণেই আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে না। এক্ষেত্রে কেন তারা হত্যাকাণ্ডের সময় গুলি ছুড়লো সেটাই রহস্য। এ কারণেই আমরা তার ব্যক্তিগত শত্রুতার বিষয়টিও মাথায় রেখেছি।
হত্যাকাণ্ডের একদিন পর বৃহস্পতিবার রাতে নিতান্তই বাধ্য হয়ে পুলিশ বাদী হয়ে সূত্রাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিহত ছাত্র নাজিমুদ্দিন সামাদের বড় ভাই আগেই মারা গেছেন। অন্য দুই ভাই থাকেন দেশের বাইরে। যে চাচাতো ভাই লাশ নিতে এসেছিলেন তিনি মামলার বাদী হতে আপত্তি করায় বাধ্য হয়েই বাদী হতে হয় পুলিশকে। তবে মামলায় সুনিদিষ্টভাবে কাউকে আসামি করা হয়নি। দু-এক দিনের মধ্যে ওই মামলার তদন্ত ভার ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে।
বর্তমানে ডিবি ওই মামলার ছায়া তদন্ত করছে।
বুধবার রাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সান্ধ্যকালীন মাস্টার্সের ছাত্র অনলাইন অ্যাকটিভিষ্ট ও গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী নাজিমুদ্দিন সামাদকে রাজধানীর সূত্রাপুর থানা এলাকার লক্ষী বাজারের কাছে ঋষিকেশ দাস লেনে দুর্বৃত্তরা চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ও মাথায় গুলি করে হত্যা করে।










