টস জিতে আগে ফিল্ডিং নেয়ার ব্যাখ্যায় সাকিব আল হাসান বললেন, তাদের বোলিং বিভাগের শক্তি দিয়ে আফগানিস্তানকে অল্পতেই আটকে রাখা টার্গেট তাদের। শুরুতে না হলেও ম্যাচের মাঝপথ থেকে শেষ পর্যন্ত সেটা প্রমাণ করেছেন বোলাররা। আফগানদের ১৩৮ রানেই বেঁধে রেখেছে টাইগাররা।
টি-টুয়েন্টির বিচারে ১৩৯ রান নাগালে থাকা টার্গেটই। তবে পুরো সিরিজে বাংলাদেশের ব্যাটিং পারফরম্যান্সের বিচারে তাদের জন্য এই টার্গেটই একরকম পরীক্ষার। বোলাররা কাজটা সহজ করে দিয়েছেন, তাই এখন দায়িত্বটা ব্যাটসম্যানদের।
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস জিতে ফিল্ডিংয়ে নেমে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করছিলেন বাংলাদেশি বোলাররা। দ্বিতীয় ওভারে রহমতউল্লাহর দেয়া একটি সহজ ক্যাচ ছাড়েন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সেই সুযোগ পেয়ে ৭৫ রানের বিশাল জুটি গড়েন দুই ওপেনার।
অবশেষে দশম ওভারে বল করতে এসেই ৩৫ বলে ৪৭ রান করা হযরতুল্লাহ জাজাইকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন আফিফ হোসেন। এক বল পরেই এই তরুণ ফিরিয়ে দেন আসগর আফগানকে (০)। অর্থাৎ কোনো রান না দিয়ে প্রথম ওভারে দুই উইকেট নিয়ে ম্যাচের লাগামটা টেনে ধরেন আফিফ।
অথচ এই বোলারকেই আগের ম্যাচগুলোতে একবারও ব্যবহার করেননি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। যা নিয়ে নানা মাধ্যমে বেশ আলোচনাও হয়েছে।
ব্যাটের সঙ্গে বোলিংয়েও যে সিদ্ধহস্ত সেটা বিপিএলের পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচেই ভালো প্রমাণ করেছিলেন আফিফ। বিসিবি একাদশের বিপক্ষে ফতুল্লার ওই ম্যাচে জিম্বাবুয়ের আউট হওয়া তিন উইকেটে সব কয়টিই নিয়েছিলেন তিনি। এমন বোলিং ফিগারের পরও টানা তিন ম্যাচে তার বল ভাগে না পাওয়া এক রকম আফসোসই ছিল। অবশেষে সেই আফসোস অনেকটাই ঘুচল।
আফিফের পর বাংলাদেশের হয়ে তিননম্বর সফলতা আনেন মোস্তাফিজুর রহমান। নিজের বলে দারুণ এক ক্যাচ নিয়ে রহমতউল্লাহকে (২৭ বলে ২৯) ফেরান ফিজ। এদিন থিতু হতে পারেননি আফগানদের সবচেয়ে ধারাবাহিক ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ নবি (৪)। সাকিবের ঘূর্ণিতে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন আফগান সাবেক অধিনায়ক।
পরে গুলবাদিন নায়েবের (১) রানআউটে ব্যাপক চাপে পড়ে আফগানিস্তান। করিম জানাতকে (৩) ফিরিয়ে সেই চাপের ভর আরও বাড়ান শফিউল ইসলাম। তবে শেষ দিকে শফিকউল্লাহর ১৭ বলে ২৩ ও অধিনায়ক রশিদ খানের ১১ রানের জোরে ১৪০ ছুঁই ছুঁই স্কোর পায় আফগানিস্তান। নির্ধারিত ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে তাদের সংগ্রহ ১৩৮ রান।
ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালিস্ট দুই দল ঠিক হয়ে গেছে। আগামী ২৪ তারিখ রশিদ খানদের প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ। দুই দলের আজকের ম্যাচটা তাই নিয়মরক্ষার। বাংলাদেশে এসে একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি জিতে নিয়েছে দেড় বছর আগে টেস্ট মর্যাদা পাওয়া আফগানিস্তান। টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটে তো তাদের বিপক্ষে টানা হারছে বাংলাদেশ। এই ম্যাচের আগ পর্যন্ত টানা চার ম্যাচে হার সাকিবদের। সেটা আরও বাড়ে নাকি কমে তা এখন নির্ভর করছে ব্যাটসম্যানদের ওপর।








