নর্থ কোরিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকায় বিশ্বের বিভিন্ন কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে নর্থ কোরিয়ার কাছ থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পদ্ধতি পাওয়া মিয়ানমার যুক্তরাষ্ট্রের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ এর প্রচারণা থেকে মুক্ত থাকছে।
দুই দেশের আইনজীবীরা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার সময়গুলোতে দূরত্ব ছিল উদ্বেগজনক। জাতিসংঘের সাম্প্রতি বলেছে, মিয়ানমার নর্থ কোরিয়ার সঙ্গে তাদের ‘চলমান’ অস্ত্রের সম্পর্ক ছিন্ন করতে ব্যর্থ হয়েছে, যেখানে তারা স্বৈরতান্ত্রিক থেকে গণতান্ত্রিক দেশের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
রিপাবলিকান সিনেটর কোরি গার্ডনার বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, আমি বার্মার সফলতা কামনা করি। আমি চাই তাদের বেসামরিক নেতৃত্ব সফল হোক। কিন্তু অত্যাচারি নর্থ কোরিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য আমরা অনর্থকভাবে দেখবো না, তাদের পাশেও থাকবো না।
রিপাবলিকানদের মুখপাত্র ইডি রয়সি মিয়ানমার সরকারকে বলেছেন, নর্থ কোরিয়ার সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা করে চললে এবং অস্ত্র কিনলে অব্যশ্যই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
বারাক ওবামা ২০১৬ সালে সু চি’র দল ক্ষমতায় আসায় তাদের ওপর থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন। কয়েক ডজন ব্যক্তি ও কোম্পানি যারা মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং সামরিক জান্তার সঙ্গে সম্পর্ক থাকায় মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের কালো তালিকায় ছিল, তাদের ওপর থেকেও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়।
এছাড়াও নর্থ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক বাণিজ্য রক্ষায় অভিযুক্ত কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়া হয়, যা ছিল জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তের পরিপন্থী।
এরপর ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর মিয়ানমারের বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান প্রতিরক্ষা শিল্পের ওপর আবারো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, তবে তা ছিল খুবই দুর্বল। অবশ্য তখন আগে যেমসব ব্যক্তি ও কোম্পানিগুলো কালো তালিকা থেকে মুক্ত হয়েছে, পুনরায় তাদরেকে ট্রেজারি বিভাগের বিশেষ মনোনীত রাষ্ট্রের (এসডিএন) তালিকাভুক্ত করেনি।
সম্প্রতি রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের কারণে মিয়ানমার আবারো যুক্তরাষ্ট্রের রোষানলে পড়েছে। রোহিঙ্গাদের নির্যাতনকে যুক্তরাষ্ট্র জাতিগত নিধন বলে উল্লেখ করেছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তাকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে। জড়িত অন্যদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য সিনেটে বিল পাশ হয়েছে। এছাড়া নর্থ কোরিয়া থেকে অস্ত্র কিনলে কোনো ব্যক্তিকে এসডিএন তালিকাভুক্ত করতে প্রয়োজনে আইন করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
যদিও এখনো মিয়ানমার নর্থ কোরিয়ার আয়ের একটি বড় উৎস। সামরিক জান্তার সময়ে মিয়ানমার ছিল নর্থ কোরিয়ার অস্ত্রের সবচেয়ে বড় বাজার।
তবে যুক্তরাষ্ট্র যেহেতু তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করছে, তাই মিয়ানমার নর্থ কোরিয়ার সঙ্গে অর্থ লেনদেন এবং নর্থ কোরিয়ার নাগরিকদের কার্যক্রম কমাতে কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে, নর্থ কোরিয়ার সঙ্গে চুক্তিও বাতিল করবে তারা। এরকম আরো অনেককিছু আছে যা ইতোমধ্যে বন্ধ হয়েছে বলে জানায় মিয়ানমার।









