নরসিংদীর রায়পুরার মির্জারচরে ইউপি নির্বাচন পরবর্তী বিরোধ, আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বের বিবাদকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এই দুই পক্ষেই সংঘর্ষে সম্প্রতি আরেকজনের মৃত্যু হয়েছিল।
আজ রবিবার দুপুর ১২টায় মির্জারচর ইউনিয়নের মির্জারচর গ্রামে দুইপক্ষের সংঘর্ষের সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাঁর ডান হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন রায়পুরা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সত্যজিৎ কুমার ঘোষ।
নিহত ওই যুবকের নাম মো. মামুন মিয়া (৩০)। তিনি রায়পুরার মির্জারচর ইউনিয়নের মির্জারচর গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় পার্শ্ববর্তী জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। এর আগে একই ঘটনায় নিহত রুবেল মিয়া (২৭) একই এলাকার মানিক ব্যাপারীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত ১১ নভেম্বর বাঁশগাড়ী ইউপি নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল নৌকার প্রার্থী মো. আশরাফুল হক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রাতুল হাসান জাকিরের মধ্যে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ দুজনের মধ্যে এলাকায় বিরোধ দীর্ঘদিনের। নির্বাচনের দিন ভোরে নির্বাচনী সহিংসতায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিন ব্যক্তির মৃত্যু হয়।
রক্তক্ষয়ী ওই নির্বাচনে ভোটের ফলাফলে বিজয়ী হন স্বতন্ত্র প্রার্থী রাতুল হাসান জাকির। এর পরপরই আশরাফুলের কর্মী-সমর্থকেরা আতঙ্কে এলাকা ছাড়েন। এরই প্রেক্ষিতে রবিবার সকালে মো. আশরাফুল হকের কর্মী-সমর্থকেরা এলাকায় ঢোকেন। বাধা দিতে এলে রাতুল হাসানের কর্মী-সমর্থকদের ধাওয়া দেন তারা। ধাওয়া খেয়ে পার্শ্ববর্তী মির্জারচর ইউনিয়নের মির্জারচর এলাকায় আশ্রয় নেন রাতুল হাসানের কর্মী-সমর্থকেরা।
পরে দুপুর ১২টার দিকে আশরাফুল হকের কর্মী-সমর্থকেরা মির্জারচর গিয়ে দেশীয় অস্ত্র ও টেঁটা নিয়ে তাঁদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষের সময় রুবেল মিয়া নামের এক যুবক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এই ঘটনায় আহত হন আরও অন্তত ৮ জন।
রায়পুরা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সত্যজিৎ কুমার ঘোষ বলেন, নিহত রুবেল মিয়ার লাশ নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে নিহত মামুন মিয়ার লাশ ওই হাসপাতালেরই মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা আছে। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে।








