ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ নতুন বছর উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের যে কোনো ধরনের চরমপন্থি আচরণ করার ব্যাপারে হুঁশিয়ার করেছেন।
নতুন বছরে কঠোরভাবে শৃঙ্খলা ও আইনের শাসন রক্ষার অঙ্গীকার করে মাক্রোঁ ভাষণে ‘ঘৃণা ছড়ানো একটি গোষ্ঠীর স্বঘোষিত মুখপাত্রদের’ প্রতি নিন্দা জানান।
জ্বালানি তেলের ওপর নতুন কর আরোপের ফলে মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ-আন্দোলনে এ পর্যন্ত অন্তত ৬ জন নিহত এবং ১৪শ’ মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
তবে ভাষণে বিক্ষোভটির একটি ইতিবাচক দিক তুলে ধরে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের উৎপত্তি জনগণের যে ক্ষোভ থেকে, সেই ক্ষোভই প্রমাণ করে যে ফ্রান্স হাল ছেড়ে দেয়নি বরং আরও সুন্দর একটি ভবিষ্যৎ গড়তে চায়।
তবে এই আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে ‘জনগণের নামে’ অনেকে মৌলবাদী চরমপন্থি কিছু উপাদান আন্দোলনে ঢুকিয়ে দিচ্ছে বলে নাম উল্লেখ না করেই মন্তব্য করেন তিনি।
মাক্রোঁ বলেন, ‘আসলে যারা এসব চরমপন্থি উপাদান ঢোকাচ্ছেন তারা শুধুই একটি ঘৃণায় পরিপূর্ণ একটি গোষ্ঠীর মুখপাত্র এবং তারা মূলত নির্বাচিত রাজনীতিক, নিরাপত্তা বাহিনী, সাংবাদিক, ইহুদি, বিদেশি এবং সমকামীদের টার্গেট করছেন।’
‘এ ধরনের আচরণ ফ্রান্সের আদর্শের বিপরীত,’ বলেন তিনি।
ফরাসি জনগণকে ভুয়া খবর সম্পর্কে সচেতন থাকতে বলে মাক্রোঁ তাদের বলেন, ‘ভুলে যাবেন না, মিথ্যার ভিতের ওপর কোনো কিছু গড়ে তোলা যায় না।’
নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনে প্রথমে শুধু আরেক দফা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রতিবাদ করা হলেও সময়ের সাথে সাথে অভিযোগের ডালপালা ছড়াতে থাকে। আন্দোলনের পরের ধাপগুলোতে সরকারের প্রতি জনগণের আরও সুদূরপ্রসারী ক্ষোভ স্পষ্ট হয়ে উঠতে থাকে।
নতুন বছরের আগের রাতে ৩১ ডিসেম্বরেও আন্দোলনকারীরা প্যারিসের রাস্তায় জড়ো হয়েছিল।
তবে আন্দোলনকারী কিছু কর্মকাণ্ড ব্যাপকভাবে সমালোচিত এবং নিন্দিতও হচ্ছে।
হাই-ভিজিবিলিটি (স্বল্প আলোতে উজ্জ্বল দেখা যায়) জ্যাকেটের মতোই একটি হলদে-সবুজ জ্যাকেট পরে বিক্ষোভকারীরা আন্দোলনে নেমেছে বলে এর নাম হয়েছে ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন। ফরাসি আইন অনুসারে যে কোনো যানবাহনে এই পোশাকটি থাকা বাধ্যতামূলক।








