বিএনপি নববর্ষের আয়োজনকে ধর্মীয় আবরণের মাধ্যমে বাধা দিতে চেয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শনিবার সকালে গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় এবং সহযোগী ও ভাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নতুন বছরের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নববর্ষের আয়োজনকে ধর্মীয় আবরণের মাধ্যমে বাধা দিতে চেয়েছিল। আর যেন কোন অশুভ শক্তি দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আসতে না পারে সে ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে।
দেশে-বিদেশের সকল বাঙালিকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে নববর্ষ উদযাপন একটি সার্বজনীন উৎসব। তিনি বলেন, এই উৎসবটা ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে সকলে একাত্ম হয়ে একত্রে উদযাপন করে। এমনকি প্রবাসে বসবাসকারী বাঙালিরাও উদযাপন করে। আমাদের সরকারি, বেসরকারি পর্যায়ে, সাধারণ জনগণ-সকলেই উৎসবটা উদযাপন করে। এমনকি আমাদের একদম গ্রাম পর্যায় পর্যন্তও এই উৎসব উদযাপন হয়। কারণ এখানে সকলে খুব মন খুলে একাত্ম হয়ে উদযান করতে পারে। সেই সুযোগটা সৃষ্টি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ উৎসব উদযাপনে যত বাধাই আসুক, বাঙালি কখনো কোনো বাধা মানে না। এ জাতি বাধা ভাঙতে জানে।
শেখ হাসিনা বলেন: পৃথিবীতে অনেক দেশ আছে। সব দেশেই নববর্ষের অনুষ্ঠান হয়। কিন্তু ভাষাভিত্তিক রাষ্ট্র এই উপমহাদেশে শুধু বাংলাদেশ। কাজেই এখানে নববর্ষের উৎসব এক ভিন্ন মাত্রা লাভ করে।
তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলি, বাংলায় হাসি, বাংলায় কাঁদি, বাংলায় জীবন চর্চা করি।
সবাই মন খুলে একাত্ম হয়ে যাতে এ উৎসব পালন করতে পারে, সেজন্য তাঁর সরকার বৈশাখী ভাতার ব্যবস্থা করেছে। সরকারি ও বেসরকারি সেক্টরে এখন এ ভাতা চালু হয়েছে।
তিনি এদেশে অতীতে বর্ষবষণ উৎসবে নানারকম প্রতিবন্ধকতা থাকার প্রসংগ উল্লেখ করে বলেন, পাকিস্তান আমালে বাংলাদেশী সংস্কৃতি এবং মূল্যবোধের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ষড়যন্ত্র ছিল। ’৭৫ এর ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছিল, তাদের অনেককেও বাঙালির বর্ষবরণে বাধা প্রদান করতে দেখা যায়।
তিনি বলেন, ‘১৯৯২ সালে আমরা ১৪০০ বঙ্গাব্দকে বরণ করতে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলাম। কিন্তু সেখানে তৎকালীন খালেদা জিয়া সরকার বাধা দেয়। আমরা কবি সুফিয়া কামালকে নিয়ে সেসব বাধা উপেক্ষা করে রমনা পার্কে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নতুন শতাব্দিকে বরণ করি।’
দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রিয় নেতৃবৃন্দ ফুলের তোড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। সাম্যবাদী দলের নেতা দিলীপ বড়ুয়া তাঁর দল এবং ১৪ দলীয় জোটের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
অনুষ্ঠানে বাঙালি ঐতিহ্যপূর্ণ খাবার মিঠাই, মোয়া, মুড়ি-মুড়কি, মুড়লি, কদমা, জিলেপি প্রভৃতির দ্বারা অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়।







