পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করার জন্য প্রত্যেক ব্যাংক ২০০ কোটি টাকা পাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন সিদ্ধান্তের খবরে ব্যাপক উল্লম্ফন দেখা গেছে শেয়ারবাজারের সূচকে।
ফলে টানা ৫ দিন দর পতনের পর ডিএসই প্রধান বা ডিএসইএক্স সূচক ৮৫ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৪ হাজার ৪৭১ পয়েন্টে। অন্য সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ১৩ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে এক হাজার ৩০ পয়েন্টে এবং ডিএস৩০ সূচক ২৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫১৭ পয়েন্টে।
বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণও। ডিএসইতে ৫০৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যা গত কার্যদিবস থেকে ১৬৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা বেশি। গতকাল লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৪০ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। ডিএসইতে ৩৫৬টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২৯৬টির, কমেছে ৪০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২০টির।
অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২৫১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১৩ হাজার ৬৩২ পয়েন্টে। সিএসইতে টাকার অংকে ৩০ কোটি ৩৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
গতকাল (সোমবার) রাতে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে বিশেষ ব্যবস্থায় তহবিল সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে এক প্রজ্ঞাপন জারি করে বলা হয়, প্রতিটি তফসিলি ব্যাংক সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করতে পারবে। নিজস্ব উৎস অথবা ট্রেজারি বিল বন্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তহবিলের অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে।
২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত যে কোনো তফসিলি ব্যাংক রেপোর মাধ্যমে এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে। এক্ষেত্রে সুদ পরিশোধ করতে হবে মাত্র ৫ শতাংশ।
এতে বলা হয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের পুঁজিবাজার সংক্রান্ত সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান (মার্চেন্ট ব্যাংক ও ডিলার লাইসেন্সধারী ব্রোকারেজ হাউজ) এবং অন্যান্য মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজকে শুধু পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে বিশেষ ব্যবস্থায় এ তহবিল সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
তফসিলি ব্যাংকগুলো চাইলে নিজস্ব উৎস থেকে তহবিল যোগান দিতে পারে। এছাড়া ধারণকৃত ট্রেজারি বিল বা বন্ড এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহ করতে পারে।
এছাড়া আরও একটি উপায় তহবিল সংগ্রহ করতে পারবে ব্যাংকগুলো। তা হলো, প্রথমে নিজ উৎস থেকে তহবিল গঠন করে পরবর্তী সময়ে ট্রেজারি বিল বা বন্ড এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সমপরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা যাবে। এই তহবিল হতে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ, ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১ এর ২৬ক ধারায় বর্ণিত বিনিয়োগসীমা অতিরিক্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, পুঁজিবাজারকে চাঙ্গা করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার খবরেই আজ বাজারে সূচক বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণও।







