‘ডিওন চকলেট–চ্যানেল আই ক্ষুদে গানরাজ’ সিজন সিক্সের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে অঙ্কন। প্রথম রানার আপ হয়েছে ঐক্য আর দ্বিতীয় রানার আপ হয়েছে ঐশী। চূড়ান্ত অনুষ্ঠানে ভালো পরিবেশনার জন্য তিলোত্তমাকে দেওয়া হয় বিশেষ পুরস্কার। পুরস্কার হিসাবে চ্যাম্পিয়ন অঙ্কন পেয়েছে ৫ লাখ টাকা, ঐক্য পেয়েছে ৩ লাখ আর ঐশী পেয়েছে ২ লাখ টাকা। চূড়ান্ত এই সাতজন প্রতিযোগী চ্যানেল আই ও রেডিও ভূমিতে অনুষ্ঠান করার সুযোগ পাবে, ইমপ্রেস অডিও ভিশন তাদের অ্যালবাম প্রকাশ করবে এবং ক্যমব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিনা খরচে পড়ার সুযোগ পাবে।
আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ডিওন চকলেট–চ্যানেল আই ক্ষুদে গানরাজ’ সিজন সিক্সের গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। ফাইনালে অংশ নেয় সাতজন প্রতিযোগী। এখানে জানানো হয়, ৬৫ হাজার প্রতিযোগীর মধ্য থেকে বিভিন্ন ধাঁপে ৪৪টা পর্ব পেরিয়ে ফাইনালে আসে প্রান্ত, অঙ্কন, ঐক্য, ঐশী, তিলোত্তমা, অথি ও ঈশিকা।
গ্র্যান্ড ফিনালের বিচারক ছিলেন দুই নিয়মিত বিচারক নজরুলসংগীতশিল্পী ফেরদৌস আরা ও ব্যান্ড তারকা এস আই টুটুল। এছাড়া মুম্বাই থেকে এসেছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী মিতালী মুখার্জি।

বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ, পরিচালক মুকিত মজুমদার, গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালের চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ, শরীফ মেলামাইনের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রাজ্জাকশরীফসহ প্রতিযোগিতার তিন বিচারক।
ফরিদুর রেজা সাগর বলেন, ‘বিজয়ীসহ ফাইনালে অংশ নেওয়া সব প্রতিযোগীই চ্যানেল আই পরিবারের সদস্যা। তারা দেশের সংগীতাঙ্গনে ভূমিকা রাখবে।’
শাইখ সিরাজ বলেন, ‘ফাইনালে অংশ নেওয়া সাত প্রতিযোগীর পড়ালেখার দায়ভার চ্যানেল আইয়ের। তাদেরকে বিনামূল্যে ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজে পড়াবে ইমপ্রেস গ্রুপ।’
বিচারক এস আই টুটুল বলেন, ‘ওরা সবাই খুবই মেধাবী। সেরা বেছে নেওয়া ছিল আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। সেরা ১৪ জনে যারা ছিল তাদের সবাইকে আমি গানে সুযোগ দেব।’

সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা। জমকালো মঞ্চ। কানায় কানায় পূর্ণ দর্শক। মুর্হমুহু করতালি আর উল্লাস ধ্বনি। পাশ্চাত্যের ঢঙ্গে একটি নাচ দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। নৃত্য প্রযোজনা সাজানো হয় ব্যালে, হিপ-হপ আর রোবট নৃত্য দিয়ে। ‘আল্লাহ মেঘ দে পানি দে’ গানের সাথে ভাংরা নৃত্য পরিবেশন করেন সেরা নাচিয়ের সিনথিয়া, দোলা, মিতি, শোভা, রোজা, সাজিন, লোটাস, প্রাপ্তি ও অহি। প্রয়াত কণ্ঠশিল্পী লাকী আখান্দকে স্মরণ করা হয় অনুষ্ঠানের গোড়াতেই। এই শিল্পীর গাওয়া কয়েকটি জনপ্রিয় গানের ম্যাডলি পরিবেশন করে ক্ষুদে গানরাজের সেরা সাত প্রতিযোগী। এ সময় পর্দায় ভেসে উঠে লাখী আখান্দের আলোকচিত্র।

আজকের অনুষ্ঠানে অন্যতম আকর্ষণ ছিল ভারতীয় কণ্ঠশিল্পী মিতালী মুখার্জির গান। তিনি সবাইকে শুভেচ্ছা জানান এবং এই অনুষ্ঠানে তাকে আমন্ত্রন জানানোর জন্য চ্যানেল আইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি গেয়ে শোনান কয়েকটি গান। তিনি বলেন, ‘নাড়ির টানে প্রাণের ঢাকায় এসেছি, এই আসতে পেরে আমি খুবই খুশি।’ এর আগে তিনি গেয়ে শোনান ‘এই দুনিয়া এখন তো আর সেই দুনিয়া নাই’, ‘বুকের ভেতর থাকনা কিছু কষ্ট জমিয়ে’ ও ‘কে আশা বেঁধে রাখলি’ গানগুলো।
তানজিলের পরিচালনায় ছিল চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির সঙ্গে এ দল শিশুর পরিবেশনায় নাচ।
আজ সেরা সাত ক্ষুদেশিল্পীর একক পরিবেশনা ছাড়াও ছিল দ্বৈত কণ্ঠের সংগীত পরিবেশনা। প্রতিযোগীদের সঙ্গে দ্বৈত কণ্ঠে সংগীত পরিবেশন করেন শফি মন্ডল, মেহের আফরোজ শাওন, শফিক তুহিন, আঁখি আলমগীর, শারমিন, আশিক ও ইমরান। অনুষ্ঠানে দেশের গান পরিবেশন করেন সামিনা চৌধুরী ও কুমার বিশ্বজিৎ। তাদের গানে সঙ্গে কোরিওগ্রাফিতে অংশ নেন নৃত্যশিল্পীরা।
পুরো আয়োজনটি পরিকল্পনা ও পরিচালনা করেন ইজাজ খান স্বপন। আর আজকের অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করেছে চ্যানেল আই।

ছবি : সাকিব উল ইসলাম








