কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে নানা অস্থিরতা আর নির্বাচনকে ঘিরে নানা আশঙ্কার খবরের মধ্যে কিছু সম্ভাবনার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে রাজধানীবাসী তথা দেশের মানুষের জন্য।
চ্যানেল আই অনলাইনে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, ‘যানজটের কারণে ঢাকায় দিনে ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়। বিগত ১০ বছরে যান চলাচলের গড় গতি ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার থেকে কমে ৭ কিলোমিটারে পর্যন্ত নেমে এসেছে। অথচ পায়ে হেঁটে চলার গড় গতি হচ্ছে ঘন্টায় ৫ কিলোমিটার। তবে সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে পূর্ব ঢাকাকে আধূনিক ও উন্নত নগর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এটি করা গেলে, সেখানে অতিরিক্ত ৫০ লাখ লোকের বসবাস ও ১৮ লাখ লোকের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ‘টুওয়ার্ড গ্রেট ঢাকা: এ নিউ আরবান ডেভেলপমেন্ট প্যারাডিজম ইস্টওয়ার্ড’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বিস্তারিত তুলে ধরেছে।’
রাজধানীতে যানজট একটি চিরস্থায়ী রুপ ধারণ করেছে। এই অবস্থা থেকে কীভাবে মুক্তি মিলবে, তা নিয়ে দেশের নীতিনির্ধারকরা কাজ করে চলেছেন, বিভিন্ন পদক্ষেপও নিচ্ছেন। কিন্তু তা কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হচ্ছে না। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের সহযোগীতায় এই সমস্যা থেকে মুক্তির পথ খোঁজার পরামর্শ একটি ইতিবাচক দিক বলে আমাদের মনে হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘‘৩টি পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে ওই অবস্থা থেকে মুক্তি মিলতে পারে। সেগুলো হলো- ১. বন্যার হাত থেকে ওই এলাকাকে রক্ষা করতে ও পানির গতি ঘোরাতে বালু নদীর তীরে একটি বাঁধ দিতে হবে, ২. ক্রমবর্ধমান সাধারণ ট্রান্সপোর্ট ও পাবলিক ট্রান্সপোর্টের চলাচলের উন্নয়নে সমন্বয় সাধন করতে হবে এবং ৩. ঢাকার পূর্বে আন্তর্জাতিক মানের একটি ‘বিজনেস ডিস্ট্রিক্ট’ বা ব্যবসায়ীক এলাকা গড়ে তুলতে হবে।
এসব করতে খরচের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ৩ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে ব্যয় হতে পারে ১ হাজার ৫শ কোটি ডলার। ওই অঞ্চলে এই অর্থ ব্যয় করা হলেও ২০৩৫ সালের মধ্য সেখানে বছরে ৫ হাজার ৩শ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক কার্যক্রম হবে।’’
বিশ্বব্যাংকের এই রিপোর্ট প্রকাশের দিনে বাংলাদেশ প্লানিং কমিশনের জেনারেল ইকোনমিক ডিভিশন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট তিন দিনব্যাপি এক সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের ৩২তম অর্থনৈতিক শক্তি। এসডিজি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ ২৮তম অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হবে। এটাও ইতিবাচক একটি খবর। নিজের সম্পদ ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আমরা আমাদের সমস্যা সমাধানসহ উন্নয়ন যাত্রা অব্যাহত রাখতেই পারি। পদ্মা সেতু প্রকল্প তার বড় প্রমাণ। যা আমাদের ভবিষ্যতে বড় কোনো কার্যক্রম হাতে নিতে সাহসী করে তুলতে সাহায্য করবে।
সরকারের নিজস্ব অর্থায়নের পাশাপাশি ভবিষ্যতে উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তায় কোনো বড় ধরণের পদক্ষেপ নিলেই হয়তো রাজধানীর উপরে ক্রমবর্ধমান চাপ কমানোসহ বসবাস ও চলাচলযোগ্য করা যেতে পারে রাজধানী ঢাকাকে। কারণ এই রাজধানীই আমাদের দেশের সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রাণকেন্দ্র, এর সচলতার সঙ্গে অনেককিছু নির্ভর করছে।








