অ্যান্টিগায় প্রথম দিনের সকাল আর দ্বিতীয় দিনের বিকেলের মাঝে সাদৃশ্য এনে দিলেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও দেখা গেল আসা-যাওয়ার মিছিল। ২২ গজে তামিম-মুশফিক-সাকিবদের মাঝে অসহায়ত্ব। ফুঁটে উঠল পেস বোলিংয়ের সামনে দুর্বলতার ভয়াবহ চিত্র।
৩৬৩ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় দিনের বিকেলে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ ৬২ রানে হারিয়েছে ৬ উইকেট। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১৫ ও নুরুল হাসান সোহান ৭ রানে অপরাজিত থেকে দিনের খেলা শেষ করেছেন।
শেষ ওভারের একটি ডেলিভারিতে কামিন্সের পা একটু পেছনে থাকলে আরও একটি উইকেট হারাত বাংলাদেশ। এই পেসারের বলে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ। পয়েন্টের ফিল্ডার সেটি তালুবন্দীও করেছিলেন। তবে ওভার স্টেপিংয়ের কারণে তৃতীয় আম্পায়ার ‘নো’ কল করলে অক্ষত থাকেন এ ডানহাতি ব্যাটসম্যান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ ৪৩ ও ৬২/৬ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪০৬
টেস্টে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ব্যবধানে হার দেখেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই। ২০০২ সালে মিরপুরে ইনিংস ও ৩১০ রানের ব্যবধানে হেরেছিল তারা। সে রেকর্ড ভাঙার শঙ্কা নেই। বাংলাদেশ এখন পিছিয়ে ৩০১ রানে।

প্রথম ইনিংসে ৪২ রানে গুঁটিয়ে যাওয়া দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দিতে পারতেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা! তবে দ্বিতীয় ইনিংসেও ভরাডুবির পর সে সুযোগ নেই। একই ভুলের পুনরাবৃত্তি আর বাজে ব্যাটিংয়ের আরেকটি প্রদর্শনী প্রশ্নবিদ্ধ করছে ২২ গজে ক্রিকেটারদের নিবেদন, মনোযোগ নিয়ে। প্রথম ইনিংসে যেভাবে আউট হয়েছেন সেভাবেই দ্বিতীয় ইনিংসে আউট হয়েছেন দলের বেশিরভাগ ব্যাটসম্যান।
যে উইকেটে টপঅর্ডার-টেলএন্ডার ব্যাটসম্যানদের অবদানে ৪০৬ রান তুলল ওয়েস্ট ইন্ডিজ সেই উইকেটই বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের জন্য হয়ে গেল মৃত্যুকূপ।
ঘাসের উইকেটে প্রথম দিনের তুলনায় দ্বিতীয় দিনে বেশি বাউন্স মিলেছে। সেটি দারুণভাবেই কাজে লাগিয়েছেন স্বাগতিক পেসাররা। প্রথম ইনিংসে দশ উইকেটই ঝুঁলিতে ভরেছিলেন তিন পেসার মিলে। দ্বিতীয় দিনে পড়া ৬ উইকেটও পেসারদের দখলে।
প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেয়া কেমার রোচ এদিন বল হাতেই নেননি। সে সুযোগে শ্যানন গ্র্যাব্রিয়েল নিয়েছেন চার উইকেট। আর জেসন হোল্ডার নিয়েছেন দুটি।
এদিনও তামিম ইকবালের উইকেট হারিয়ে শুরু করে বাংলাদেশ। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে টেস্টে ৪ হাজার রানের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলেন বাউন্ডারি মেরে। তামিমের দরকার ছিল ১১ রান। সেটি পার করেই গালিতে ক্যাচ দিয়ে ধরেন প্যাভিলিয়নের পথ।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি গড় যার, সেই মুমিনুল হক দ্বিতীবারের মতো মারেন ডাক। প্রথম ইনিংসে সর্বোচ্চ ২৫ রান করা লিটন দাস স্লিপে ক্যাচ তুলে দেন ২ রান করার পর। ১৬ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বসলে দ্বিতীয় দিনেই ম্যাচ শেষ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা জাগে।
দলের কঠিন সময়েও নিজেদের মেলে ধরতে পারেননি অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম (৮) ও সাকিব আল হাসান (১২)। তাদের দ্রুত বিদায়ে আরও কোনঠাসা হয়ে পড়ে বাংলাদেশ শিবির। অলরাউন্ডার হিসেবে নিজেকে চেনানোর প্রয়াসে থাকা মেহেদী হাসান মিরাজ আউট হন ২ রান করে।
ক্যারিবীয়দের ইনিংসে শুরু এবং শেষের উইকেট নেন আবু জায়েদ রাহি। ইনিংসে তিন উইকেট। অ্যান্টিগায় টেস্ট অভিষেক খারাপ হয়নি এ ডানহাতি পেসারের। তবে দলের অবস্থা বিবেচনায় সেটি নিয়ে মাতামাতি করার সুযোগ ছিল না।

সফরকারীদের করা ৪৩ রানের জবাবে স্বাগতিক দল প্রথম ইনিংসে তোলে ৪০৬ রান।
প্রথম দিন ওয়েস্ট ইন্ডিজ তুলেছিল ২ উইকেট হারিয়ে ২০১ রান। দ্বিতীয় দিনে ৮ উইকেট হারিয়ে তারা যোগ করে আরও ২০৫ রান।
মেহেদী হাসান মিরাজ তিনটি, সাকিব আল হাসান দুটি, কামরুল ইসলাম রাব্বি ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ নিয়েছেন একটি করে উইকেট।
আগের দিন ৮৮ রানে অপরাজিত থাকা ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট থামেন ১২১ করে। লাঞ্চ বিরতির পর উইকেটে এসেই সাজঘরে ফেরেন এ ওপেনার। এরপর আসে আরও দুই সাফল্য। একপ্রান্তে সাকিব আল হাসান অন্যপ্রান্তে মেহেদী হাসান মিরাজ। দুই স্পিনার মিলে দ্রুতই তুলে নেন আরও ২ উইকেট।
৩ উইকেটে ২৭১ রান নিয়ে লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়া দলের স্কোর বিরতির পরপরই হয়ে যায় ৬ উইকেটে ২৮৮। ১৬ রানের ব্যবধানে বাংলাদেশ ৩ উইকেট তুলে নিয়ে চা-বিরতির আগেই দশ উইকেট তুলে নেয়ার আশা জাগায় স্পিনাররা। তবে সপ্তম উইকেটে ক্যারিবীয়দের ৫০ রানের জুটি অপেক্ষা বাড়ায়।

মিরাজের দ্বিতীয় শিকার হয়ে ৩৩ করা জেসন হোল্ডার সাজঘরে ফিরলে ভাঙে জুটিটি। হোল্ডারকে ফিরিয়ে দেশের পক্ষে দ্রুততম ৫০ উইকেট শিকারের রেকর্ডে ভাগ বসান বাঁহাতি স্পিনার মোহাম্মদ রফিকের সঙ্গে। তার আগেই প্রথম শ্রেনির ক্রিকেটে নিজের শততম উইকেট শিকার করেন মিরাজ।
১৩ টেস্টে ৫০ উইকেট মিরাজের। রফিকেরও লেগেছিল সমান ম্যাচ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০০৪ সালে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে রফিক ছুঁয়েছিলেন ৫০ উইকেটের মাইলফলক। ১৪ বছর এককভাবে এ গৌরব ধরে রাখতে পেরেছেন রফিক।
ক্যারিবীয়দের পরের জুটিটি হয় আরও বড়। বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসিয়ে দেয়া কেমার রোচের সঙ্গে হোপ গড়েন ৫৬ রানের আরেকটি বড় জুটি।
৫১ রানে জীবন পাওয়া এ ডানহাতি ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফেরেন ৬৭ রান করে। রাহির বাউন্সারে গালি অঞ্চলে হোপের সহজ ক্যাচ ছাড়ে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।
রাহির তৃতীয় শিকার হয়ে গ্যাব্রিয়েল সাজঘরে ফিরলে অলআউট হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।










