প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যে কোনো ধরণের জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস বাংলাদেশে স্থান পেতে দেবে না সরকার। এই দেশের সবাই জঙ্গিবাদ বিরোধী। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জেলা পরিষদ সম্মেলনের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অভিযান সাফল্যের সঙ্গে শেষ হয়েছে; ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেয়েছে দেশ।
দেশে জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর হয়ে দেশের শান্তি-শৃংঙ্খলা রক্ষায় কাজ করার জন্য জেলা প্রশাসকদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না বাংলাদেশ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভয়ারণ্য হোক। এই দেশে আমরা জঙ্গিবাদকে ঠাঁই পেতে দেবো না। এটাই আমাদের নীতি।’
এ ধরণের সন্ত্রাসের মোকাবেলা করে প্রতিরোধ করাই এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন পুরো দেশের সবার মধ্যে একটি জাতীয় ঐক্য তৈরি হয়েছে। এখানেও জেলা প্রশাসকদের ভূমিকা রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাদের ধন্যবাদ দেন।
তিনি বলেন, মাঠ প্রশাসনে কর্মরতদের দায়িত্ব অনেক বেশি। কাজেই সর্বোচ্চ মেধা, বুদ্ধি, দক্ষতা ও শক্তি দিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সন্ত্রাস রুখতে হবে।
তৃণমূল থেকে সবাইকে নিয়ে কমিটি গঠন করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার পাশাপাশি কোমলমতি শিশু ও শিক্ষার্থীরা যেন বিপথে না যায় সে ব্যাপারে অভিভাবকদের সচেতন করতে প্রধানমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেন।
এবারের অর্জিত প্রবৃদ্ধি ৭.০৫ এর প্রেক্ষিতে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭.২ নির্ধারণের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।
সরকারের গৃহীত চলমান বা নতুন উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে কার্যকর হচ্ছে কিনা সেদিকে নজর দিতে বিশেষভাবে কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী। উদ্বোধনী ভাষণে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দেয়ার পাশাপাশি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডগুলোও ভালোভাবে এগিয়ে নেয়ার দিকে খেয়াল রাখার কথা বলেন তিনি।
প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেখানে যেটা প্রয়োজন সেই প্রকল্পেরই পরিকল্পনা করা উচিৎ। ‘অনেক সময়ই এটা দেখা যায়, জনগণের উন্নয়ন বা দেশের কল্যাণ যতটা না, তার চেয়ে বেশি কোথাও কিছু একটা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড শুরু করতে পারলেই কিছু পয়সা খরচ করা যাবে, কিছু পয়সা বানানো যাবে, কিছু নিজের পকেটে আসবে – এমন এক ধরণের চিন্তা ও ঝোঁক অনেকের মধ্যেই কাজ করে।’
অপ্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয়ের ঝোঁক যেন না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। কতটুকু কাজ করলে ওই অঞ্চল এবং তার মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হবে সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে। উদ্ভাবনী চিন্তা এবং দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করতে প্রধানমন্ত্রী আহ্বান জানান।
সরকারি সেবা গ্রহণে সাধারণ মানুষ যেন হয়রানি বা বঞ্চনার শিকার না হন, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতা দূর করা, নারী ও শিশু নির্যাতন ও পাচার, ইভটিজিং, মাদকদ্রব্য পাচার ও অপব্যবহার, ভূমি প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধিসহ ১৯টি বিশেষ দায়িত্বের প্রতি জেলা প্রশাসক হিসেবে খেয়াল রাখার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের জন্য জেলা প্রশাসকদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।







