দেশীয় পণ্যের বিক্রি বাড়াতে বিদেশি ওয়াশিং মেশিন ও সোলার প্যানেল আমদানির ওপর নতুন ‘বিতর্কিত’ ট্যারিফ আরোপে অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বাণিজ্য নীতির অধীনে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আমেরিকা ফার্স্ট নীতির লক্ষ্যই হচ্ছে বিদেশি প্রতিযোগিতা থেকে দেশীয় প্রস্তুতকারকদের ব্যবসা রক্ষা করা।
প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প এই ট্যারিফ আরোপের কথা বলে আসছিলেন।
একে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) চুক্তি ও নর্থ আমেরিকান ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (নাফটা) থেকে সরে আসার সিদ্ধান্তের পর সবচেয়ে বড় প্রভাব বিস্তারকারী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিবিসি জানিয়েছে, সোলার প্যানেলের ওপর আরোপিত ট্যারিফ মার্কিন স্থানীয় উৎপাদনকারীদের কাঙ্ক্ষিত পরিমাণের চেয়ে কম হলেও ওয়াশিং মেশিন ও এর খুচরা সরঞ্জামের ওপর ট্যারিফ ধরা হয়েছে তাদের ধারণার চেয়ে অনেকখানি বেশি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই ট্যারিফের পরিমাণ প্রায় ৫০ শতাংশ বলে প্রকাশিত নথিপত্রে দেখা গেছে।
দেশি কোম্পানিগুলো আমদানিকৃত তুলনামূলক সস্তা ওয়াশিং মেশিন ও সোলার প্যানেলের কারণে দেশের বাজারে মার খাচ্ছে – যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিশনের এমন তথ্যের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন ট্যারিফ আরোপের জন্য অনুমোদন দেন।
নতুন এই ট্যারিফ অনুমোদনের ফলে চীনের সোলার প্যানেল ও সাউথ কোরিয়ার ওয়াশিং মেশিন প্রস্তুতকারীরা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবেন। তাই দু’টো দেশই ট্যারিফের তীব্র সমালোচনা করেছে।
সাউথ কোরিয়া ট্যারিফকে ‘অতিরিক্ত’ এবং ‘দুঃখজনক’ উল্লেখ করে এ ব্যাপারে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় অভিযোগ করবে বলে জানিয়েছে। সাউথ কোরিয়ার স্যামসাং ও এলজিসহ নামিদামি ব্র্যান্ডগুলো ওয়ার্লপুলসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ওয়াশিং মেশিন ব্র্যান্ডের সঙ্গে জোর প্রতিযোগিতা করে মার্কিন বাজারে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় সোলার প্যানেল নির্মাতা দেশ চীন বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিবেশ অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
পরিবেশবিদদের আশঙ্কা, বিদেশি সোলার প্যানেলের ওপর ট্যারিফ বাড়ালে সেগুলোর দাম মার্কিন বাজারে বেড়ে যাবে। অন্যদিকে দেশি পণ্যগুলোর মূল্য আগে থেকেই কিছুটা বেশি। এই দাম বাড়ার কারণে জনগণ সোলার প্যানেল কিনতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন; যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে নবায়নযোগ্য শক্তির উন্নয়ন ব্যাহত হতে পারে।










