বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী ‘বিন্টুরং’-এর দেখা মিলেছে। সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রাণীটিকে পাওয়া গেছে। ‘বিন্টুরং’-টিকে শ্রীমঙ্গলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।
বন বিভাগের তথ্যমতে, দক্ষিণ এশিয়ায় এদের বসবাস হলেও এরইমধ্যে বিলুপ্ত হয়ে গেছে এই প্রজাতির ৭০ ভাগ। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন-২০১২ এর সংরক্ষিত প্রাণীর তালিকায়ও রয়েছে বিন্টুরং।
সিলেট থেকে আমাদের প্রতিনিধি সাদিকুর রহমান সাকী জানান, সোমবার সকালে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের ব্রাহ্মণগ্রামে একটি গাছ থেকে পড়ে যায় বিন্টুরংটি। প্রাণীটিকে নিজেদের তত্ত্বাবধানে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয় সিলেট বনবিভাগ। পরে পাঠানো হয় শ্রীমঙ্গলে, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে।

সিলেট বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আর. এস. এম. মুনিরুল ইসলাম বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কায় দেখা মিলতো বিন্টুরং-এর। সামনের অংশ দেখতে ভালুক ও বাকী অংশ বিড়ালের মতো হওয়ায় একে বিয়ারক্যাট বা ভালুক-বিড়াল বলেও ডাকা হয়।
মুনিরুল বলেন, এর দেহের ও লেজের রঙ আলাদা। দেহের রঙ বাদামী আর লেজের রঙ একেবারে কালো। এটি বিপন্ন প্রাণীর তালিকায় রেড জোনে অবস্থান করছে, বলেন মুনিরুল। গেলো এক দশকে এর ৭০ ভাগই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বাংলাদেশে এর আগে দেখা যায়নি বিন্টুরং। তবে, মৌলভীবাজারের আদমপুর বনে ক্যামেরা ট্রাপিংয়ের মাধ্যমে এর অস্তিত্ব পাওয়া যায়।
তিনি জানান, প্রাণীটিকে সাত দিন অবজারভেশনে রেখে আদমপুর বনে ছেড়ে দেওয়া হবে।
ভূমিসন্তান বাংলাদেশ-এর সমন্বয়কারী পরিবেশকর্মী আশরাফুল কবির বলেছেন, বনাঞ্চল ধ্বংস করা আর খাদ্য সংকটের কারণে বিন্টুরং-এর মতো অনেক প্রজাতিই বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এদের রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। প্রাণীকুল টিকে না থাকলে আমাদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।








