ভারতের ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। সোমবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টার দিকে সংসদে বাজেট পেশ করেন তিনি।
তবে বাজেট নতুন হলেও গত বছরের তুলনায় এতে মৌলিক কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে দাবি বিশ্লেষকদের।
এ বছর প্রথমবারের মতো বাজেট প্রণয়নের আগেই সরকার টুইটারের মাধ্যমে দেশের জনগণের কাছ থেকে বাজেট বিষয়ে পরামর্শ চায়। এছাড়াও বাজেট থেকে মানুষজনের প্রত্যাশা ও চাহিদাও জানার চেষ্টা করা হয়ে বাজেট প্রণয়নপূর্ব বেশ কিছু জরিপ চালানোর মধ্য দিয়ে।
এবারের বাজেটে ৩৮৫০০ কোটি টাকা এমএনরেগা প্রকল্পে বরাদ্দ করেছেন অর্থমন্ত্রী। ভারতের সব গ্রামকেই ২০১৮ সালের ১ মে’র মধ্যে পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়নের অধীনে আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। কিন্তু শিল্পক্ষেত্রে তার পদক্ষেপের মাপ খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এক কথায় তারা বলছেন, বাজেটে মূলত কৃষির ওপর জোর দেয়া হয়েছে। আশা, কৃষিতে জোয়ার এলে বাজারও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি বাজেটে জানানো হয়েছে, প্রচেষ্টা রয়েছে বিভিন্ন কর সংক্রান্ত আইনের মধ্যে যে বিবাদের জায়গা রয়েছে তা মিটিয়ে কর ব্যবস্থাকে আরও সহজ করে তোলা।
এছাড়াও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে অবকাঠামো ও সামাজিক ক্ষেত্রে।
দেশটির এবারের বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে মন্ত্রী অরুণ জেটলির কর প্রস্তাব। নতুন বাজেট অনুসারে,
– যারা প্রথম গৃহঋণ নিচ্ছেন, তারা ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা ছাড়।
– বছরে এক কোটির উপর যাদের আয়, তাদের আয়করের উপর সারচার্জ ১২ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৫ শতাংশ।
– ব্যক্তিগত আয়কর ছাড়ের সীমা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে বার্ষিক পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত যাদের আয়, তারা ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ছাড় পাবেন।
– ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ি ভাড়ায় আয়কর ছাড় মিলবে। আগে এই সীমা ছিল ২৪ হাজার টাকা।
ভারতের মধ্যবিত্ত এবং উচ্চ মধ্যবিত্ত হতাশ অরুণ জেটলির এই আয়কর প্রস্তাবে। ব্যক্তিগত আয়কর ছাড়ের সীমা বাড়বে বলে আশা থাকলেও তাদের সেই আশা পূরণ হয়নি এই বাজেটের মধ্য দিয়ে।
বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে শিল্পখাতে বিশেষ বরাদ্দের কথা উল্লেখ থাকবে, এমনটা আশা করা হলেও তেমন কিছুই বাজেট ঘোষণায় ছিলো না বলে দাবি বিশ্লেষকদের। তবে সম্পূর্ণ বাজেট হাতে পাওয়ার আগে আপাতত এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয় বলে তারা জানান।






