ধর্ম সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে নিজের জীবন বিপন্ন করে তুলেছেন এক ব্লগার। হারিয়েছেন স্বামীকেও। সেই বন্যা আহমেদ(রাফিদা আহমেদ বন্যা) পেলেন তার কাজের স্বীকৃতি।
‘দি ববস-বেস্ট অব অনলাইন অ্যাক্টিভিজমে’র ১১তম বাৎসরিক পুরষ্কার পেলেন বন্যা আহমেদ(রাফিদা আহমেদ বন্যা)।
ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে লেখালেখি করার জন্য ২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি গুরুতর জখম করা হয় বন্যা আহমেদকে এবং তার সামনেই স্বামী অভিজিৎ রায়কে কুপিয়ে মেরে ফেলা হয়। তারপরও ধর্মীয় মৌলবাদীদের এই হামলার বিষয়ে মোটেও মুখ বন্ধ করে থাকেননি বন্যা। তাই দি ববস তাদের সোশাল চেঞ্জ ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত করে বন্যা আহমেদকে।
ববস’র জুড়ি মেম্বার শহীদুল আলম বলেন, আমরা অসহ্য এক পরিস্থিতির মধ্যে আছি। এই দেশটির ধর্মনিরপেক্ষতার মূলনীতিকে নষ্ট করছে যারা,বন্যার মতো ব্লগাররা সেই সব মৌলবাদীদের বিরুদ্ধেই লড়াই করছেন।
মুক্তমনা ডটকম’র বন্যা আহমেদ এবং অন্যান্য ব্লগাররা সবসময় তাদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছেন। ধর্মীয় মৌলবাদীদের একটি দল ৮৪ জনের একটি লিস্ট প্রকাশ করে যাদের তারা মেরে ফেলতে চায় এবং এদের মধ্যে আটজনকে তারা হত্যাও করেছে।
শহীদুল আলম আরো বলেন, খুবই দমবন্ধ একটা পরিবেশ, এখন মনের কথা মুক্তভাবে প্রকাশ করলেই মৃত্যু হতে পারে। কিন্তু ব্লগারদের মুক্তভাবে মত প্রকাশের অবাধ্যতা আরো বেশি গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিত।
এবং সেই দায়িত্ব এখন বাকিদের উপরই বর্তায়। এসব সাহসী মানুষগুলোর প্রয়োজনীয় সহযোগিতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে সবার এবং সেদিকে নজর রাখতে হবে সরকারকেও ।
ববস’র সোশ্যাল চেঞ্জ সেক্টরে বন্যা আহমেদ ছাড়াও প্রাইভেসি ও সিকিউরিটি সেক্টরে মেক্সিকোর র্যাঞ্জো ইলেক্ট্রনিকো এবং আর্টস ও মিডিয়া সেক্টরে সিরিয়া’র ‘জেয়টোন, দি লিটল রিফিউজি’ প্রজেক্টকে এই পুরষ্কার দেয়া হয়। পিপল’স চয়েস মানে জনগণের ভোটের মাধ্যমে অ্যাওয়ার্ড পায় ‘টেক ব্যাক দ্যা টেক’ নামের একটি প্রজেক্ট।
২০০৪ সাল থেকে দি ববস পুরস্কারটি প্রদান করা হয়। ১৪টি ভাষার ব্লগার, অ্যাক্টিভিস্ট ও সাংবাদিক, যারা তাদের মতবাদ ও ধারণা মুক্তভাবে ইন্টারনেটে প্রকাশ করে এবং মানবাধিকার নিয়ে কথা বলে তাদের হাতেই এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।






