ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) বিরোধিতা করে পাঞ্জাবে ব্যাপক বিক্ষোভ ও র্যালি করেছেন কৃষকরা। কৃষকদের দাবি, এই চুক্তি কার্যকর হলে দেশের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বেন এবং ভারতের কৃষি খাত বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন (রাজেওয়াল)–এর ব্যানারে সোমবার হাজার হাজার কৃষক মোহালির ফেজ-৮ এলাকার নেচার পার্ক থেকে চণ্ডীগড়ের সেক্টর-৩৪ এক্সিবিশন গ্রাউন্ড পর্যন্ত বাইক ও গাড়ির র্যালি করেন। পাঞ্জাবের ২৩টি জেলার কৃষকেরা এতে অংশ নেন।
আয়োজকদের দাবি, র্যালিতে ৫০০টিরও বেশি মোটরসাইকেল, গাড়ি ও জিপ অংশ নেয়। কর্মসূচিকে ঘিরে চণ্ডীগড় ও মোহালি পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় এবং বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। নিরাপত্তার কারণে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও ছুটি ঘোষণা করে।
সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন (রাজেওয়াল)-এর সভাপতি বলবীর সিং রাজেওয়াল বলেন, প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা উচিত। তার ভাষ্য, ভর্তুকিপ্রাপ্ত বিদেশি কৃষিপণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা ভারতের ক্ষুদ্র কৃষকদের পক্ষে সম্ভব হবে না। এতে কৃষি, দুগ্ধ, পোল্ট্রি এবং সংশ্লিষ্ট খাতগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
কৃষক নেতারা পাঞ্জাবের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা দাবি করেন, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানিতে ভারী ধাতুর উপস্থিতি বেড়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এদিকে কৃষক সংগঠনের নেতারা রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনা করে বলেন, কৃষক ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর প্রকৃত সমস্যাগুলো উপেক্ষা করা হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, বাণিজ্য চুক্তি, ভূমি অধিগ্রহণ নীতি এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত কৃষকদের স্বার্থবিরোধী।
র্যালি শেষে কৃষকরা দুটি পৃথক স্মারকলিপি জমা দেন। এর একটি পাঞ্জাবের রাজ্যপালের মাধ্যমে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে এবং অন্যটি পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দেওয়া হয়। স্মারকলিপিতে কৃষকদের বিভিন্ন দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।
র্যালির কারণে চণ্ডীগড় ও মোহালির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সাময়িক যানজটের সৃষ্টি হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।







