আগে ধারণা করা হয়েছিল ঘূর্ণিঝড় অশনি তার শক্তি হারিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল স্পর্শ করে বঙ্গোপসাগরে হারিয়ে যাবে। কিন্তু ঘূর্ণিঝড়টি হঠাৎ দিক পরিবর্তন করে ভারতের অন্ধপ্রদেশের উপকূলে আঘাত হানতে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে অন্ধ্রপ্রদেশে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে।
এনডিটিভি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড়টি এখন অন্ধ্রপ্রদেশের কাঁকিনাড়া উপকূলের আছড়ে পড়তে যাচ্ছে।
বিশাখাপত্তনম ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পরিচালক সুনন্দা বলেন, ‘এটি কাঁকিনাড়া উপকূল স্পর্শ করার পর সমুদ্রে চলে যাবে। তবে আবার তা নিম্নচাপ হয়ে কাঁকিনাড়া এবং বিশাখাপত্তনমের কাছাকাছি সমুদ্রে ফিরে আসবে।
এর আগে ভারতের আবহাওয়া বিভাগের (আইএমডি) কর্মকর্তাদের ধারণা করেছিল, অশনি বঙ্গোপসাগরে একটি বাঁক নেবে। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে ঘূর্ণিঝড়টি এখন কাঁকিনাড়া উপকূলে পৌঁছাতে চলেছে। যে কারণে অন্ধ্রপ্রদেশে ঘূর্ণিঝড়ের রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ ছিলো উত্তর-পশ্চিম দিকে। কিন্তু বিগত ৬ ঘণ্টায় এটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তাই, এটি আমাদের অন্ধ্রপ্রদেশে উপকূলের খুব কাছাকাছি বলে উল্লেখ করেন সুনন্দা।
আগামী কয়েক ঘণ্টায়, এটি উত্তর পশ্চিম দিকে এবং প্রায় অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছাকাছি চলে যাবে। আগামীকাল সকালে এটি তার দিক পরিবর্তন করবে এবং উত্তর-উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হবে এবং কাঁকিনাড়া উপকূল-পূর্ব গোদাবরী উপকূল স্পর্শ করবে এবং তারপর পূর্ব দিকে বিশাখাপত্তনম উপকূলের সমান্তরালভাবে অগ্রসর হবে বলে জানান সুনন্দা।
বুধবার বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর সর্বশেষ বুলেটিনে জানিয়েছে, ঘুর্ণিঝড়টি পশ্চিম মধ্য-বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় অশনি উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে।
এটি গতকাল মঙ্গলবার মধ্যরাতে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ১৩২০ কি.মি. দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১২৯০ কি.মি. দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১১৪৫ কি.মি. দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১১৭০ কি.মি. দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিলো। যা আরও উত্তরপশ্চিমে অগ্রসর ও দুর্বল হয়ে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। এর প্রভাবে আজ এবং আগামীকাল সারাদেশে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪কি.মি. এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কি.মি. যা দমকা হাওয়া বা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১১৭ কি.মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছাকাছি সমুদ্র বিক্ষুব্ধ রয়েছে বলে জানায় অধিসপ্তর।
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহকে দুই নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করা সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছ সাবধানে চলাচল করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।








