সারা বছর ধরে দেশের বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে দুর্ঘটনা বেড়ে যায়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও পরিবহন বিষয়ক অনেকে অনেক কথা ও পদক্ষেপের কথা বললেও কোনো কিছুই কাজে আসছে না।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের তথ্য অনুযায়ী ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সারাদেশে ৫২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৫০ জন। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমের শিরোনাম হচ্ছে বেশ কয়েকদিন ধরেই। গণমাধ্যমের পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমেও বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠার জন্ম দিয়ে।
প্রতিবছর ঈদের আগে একই ধরণের নানা আশ্বাস ও পদক্ষেপের কথা জানান সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সড়ক নিরাপত্তায় দায়িত্বপ্রাপ্তরা, যা অর্থহীন হিসেবে দেখা দেয়। এই অবস্থায় আশা কথা যে, সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নিয়ে এগিয়ে আসতো দেখা গেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে।
দেশের আইন-শৃঙ্খলা, ব্যাংক-অর্থনীতি, শিক্ষা-বেতন বৃদ্ধিসহ নানা ছোটবড় ইস্যুতে সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করা হয়ে থাকে। বিভিন্ন ইস্যুতে সেসব বিষয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তরা অনেকটা নির্ভার হয়ে থাকেন, যেনো তাদের কিছুই করার নেই। আর বেশি কিছু হলে প্রধানমন্ত্রীতো আছেনই। সড়ক দুর্ঘটনা ইস্যুতেও প্রধানমন্ত্রী এগিয়ে এলেন, নির্ভার দায়িত্বশীলরা নিশ্চিন্ত হলেন। ভাব খানা এমন যে, দায়-দায়িত্ব যেনো শুধু প্রধানমন্ত্রীর!
মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ঈদ পরবর্তী সড়ক দুর্ঘটনার জন্য বৈঠকে উদ্বেগ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠকে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে দূরপাল্লার রুটে কোন ড্রাইভার যাতে টানা ৫ ঘন্টার বেশি গাড়ি চালাতে না পারে, ড্রাইভার-হেলপারদের প্রশিক্ষণ, দূরপাল্লার বাসে বিকল্প ড্রাইভার ও বিশ্রামের ব্যবস্থা, যাত্রীদের সিট বেল্ট ব্যবহার, রাস্তা পারাপারে জেব্রা ক্রসিং এর ব্যবহার ও অযাচিত রাস্তা পারাপার বন্ধেও বিভিন্ন নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। এসব ব্যাপারে তদারকির জন্য তিনি স্বরাষ্ট্র ও নৌ পরিবহনমন্ত্রীকে তদারকির নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরে হয়তো কিছুদিন জোরোশোরে এগুলো দেখা হবে আবার কিছুদিন পরে আবার যা তাই দাঁড়াবে। কারণ হিসেবে আমাদের যা মনে হয়েছে, বাংলাদেশে নানা বিষয়ে নানা ধরণের নিয়ম-কানুন থাকলেও তা কার্যকর হচ্ছে কিনা, তা নিয়মিত মনিটরিংয়ে চরম অব্যবস্থাপনা রয়েছে। এই বিষয়গুলোর কারণে চরম অনিয়মও নিয়মিত কার্যক্রমে পরিণত হয়ে যায়। বিষয়গুলো আমাদের ভাবাচ্ছে। তারপরেও প্রধানমন্ত্রী যখন নিজের উপরে চাপ নিয়ে সড়ক দুর্ঘটনা বিষয়ে এগিয়ে এসেছেন, তা কিছুটা পরিবর্তন নিয়ে আসবে বলে আমাদের আশাবাদ। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরে সড়ক নিরাপত্তা ও পরিবহন জনবল বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তরা সারাবছর এইসব বিষয়ে আরও সক্রিয়, মনোযোগী ও আন্তরিক হলেই সড়ক-মহাসড়কে বন্ধ হতে পারে মৃত্যুর মিছিল।









