সরকার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত অনুসরণ না করায় ১০টি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজকে এক কোটি টাকা করে জরিমানা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। আজ রোববার থেকে ১০ দিনের মধ্যে জরিমানা করা অর্থের অর্ধেক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে এবং বাকি অর্থ দু’টি দাতব্য প্রতিষ্ঠানকে দিতে বলেছেন আদালত।
অর্থ পরিশোধ সাপেক্ষে ১৫৩ শিক্ষার্থীকে রেজিস্ট্রেশন কার্ড দিতে বলা হয়েছে। আর এখন থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত মানতে হবে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোকে।
২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে ১৫৩ শিক্ষার্থীর ভর্তির ক্ষেত্রে নম্বরের শর্ত পূরণ না হওয়ার পরও তাদের ভর্তি করায় ১০ বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের কাছে এ বিষয়ে জানতে চান আপিল বিভাগ। কলেজগুলোর পক্ষ থেকে জবাব দিয়ে বলা হয় সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ মেনেই ভর্তি করা ওই শিক্ষার্থীদের।
এ সময় প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা ভর্তিকে কেন্দ্র ব্যবসা হওয়া এবং অনেকেই নিজের জমি বিক্রি করে
ভর্তি হচ্ছেন এমন বহু অভিযোগ পাওয়ার কথা আইনজীবীদের জানান। পরে শুনানি শেষে আদেশ দেন আপিল বিভাগ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষের আইনজীবী এ এফ এম মেসবাহ উদ্দিন বলেন, এই ১০টি মেডিক্যাল কলেজের কর্তৃপক্ষকে এক কোটি টাকা করে জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেক অর্থ, ৫০ লাখ টাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে দেয়া হবে। আর বাকি অর্থ লিভার ফাউন্ডেশন ও কিডনি ফাউন্ডেশনকে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি সংক্রান্ত সব বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যেসব বিধি-নিষেধ বা নীতিমালা নির্ধারণ করবে সেগুলোই মানতে হবে বলে জানান এই আইনজীবী।
এম এইচ শমরিতা মেডিক্যাল কলেজ, সিটি মেডিক্যাল কলেজ, নাইট এঙ্গেল মেডিক্যাল কলেজ, জয়নুল
হক শিকদার মহিলা মেডিক্যাল কলেজ, ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ, ইস্ট-ওয়েস্ট মেডিক্যাল কলেজ, তাইরুন নেছা মেমোরিয়াল মেডিক্যাল কলেজ, আইচ মেডিক্যাল কলেজ, কেয়ার মেডিক্যাল কলেজ ও আশিয়ান মেডিক্যাল কলেজের বিরুদ্ধে এ আদেশ দেয়া হয়।
এটি একটি খুবই কঠোর আদেশ বলে মনে করেন বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর পক্ষের আইনজীবী মাসুদ রেজা সোবহান। তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে এর সঙ্গে একমত নই। তবে যেহেতু আদালতের নির্দেশ, আমাদের এটা মেনে নিতেই হবে।’
আদেশে আরও বলা হয় জরিমানা না দিলে কলেজগুলো ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে না। বিষয়টি তদারকি করবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।







