ভারতের সাথে বাংলাদেশের তিস্তার পানি বন্টন চুক্তির ইতিবাচক সমাধানের ইঙ্গিত দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিজয় কুমার সিং।
ভারতের শিলিগুঁড়িতে চ্যানেল আইকে তিনি বলেন, যেভাবে এ সমস্যা সমাধান করলে দুই দেশের মানুষের উপকার হয় সেভাবেই সমাধান করা হবে। তবে কবে এ সমস্যার সমাধান হবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি ভি কে সিং।
শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই তিস্তার করুণ অবস্থা। তিস্তা ব্যারেজের ৪৪ টি গেট বন্ধ থাকার পরও ব্যারেজের মূল এলাকার বেশিরভাগ অংশেই পানি নেই। যেসব যায়গায় পানি আছে তাও হাটুর নিচে।
রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী পর্যন্ত ১‘শ ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ নদী বাংলাদেশে প্রবেশের পর প্রথম ২০ কিলোমিটার ছাড়া পুরো ১‘শ কিলোমিটার এলাকাই এখন ধু ধু বালুচর।
পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহ না থাকায় তিস্তা সেচ প্রকল্প থেকে বোরো মৌসুমে পানি পাচ্ছে না এ নদীর উপর নির্ভরশীল ৩৫টি উপজেলার কয়েক লাখ কৃষক। নদীতে মাছ না পেয়ে অবসর সময় পার করছে কমপক্ষে সাড়ে তিন হাজার জেলে।
তারা বলেন, সারাদিন বসে থেকে ৫০-১০০ টাকার কাজ হয়। কোনোভাবে বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে বেঁচে আছি। সরকারিভাবে আমাদের যে পানি পাওয়ার কথা সেটাও তো পাচ্ছি না।
ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি অনুযায়ী তিস্তার মোট পানির ৪০ শতাংশ পাওয়ার কথা বাংলাদেশের। ভারতের ৩০ শতাংশ আর বাকি ৩০ থাকবে স্বাভাবিক প্রবাহ।
যদিও ৪২ বছরেও এর কোনো কিছুই পায়নি বাংলাদেশ। বরং গজল ডোবা বাধ নির্মাণ করে তিস্তার পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্থ করেছে ভারত।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসেব অনুযায়ী শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশে ৫ হাজার কিউসেক পানির প্রয়োজন। তার বিপরীতে বাংলাদেশ গত ডিসেম্বরে পেয়েছে ৩ হাজার কিউসেক, জানুয়ারীতে ২ হাজার কিউসেক আর চলতি মাসে মাত্র ৫‘শ কিউসেক পানি।
ভারতের শিলিগুঁড়িতে ইমিগ্রেশন উদ্বোধনের পর ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিজয় কুমার সিং চ্যানেল আইকে বলেন তিস্তা সমস্যার সমাধান করা হবে।
তিনি বলেন, আমি মনে করি বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বপূর্ণ চুক্তির মধ্যেই তিস্তার ইতিবাচক সমাধান হবে। এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের মানুষ চাহিদা অনুযায়ী সুষ্ঠুভাবে পানি পাবে তা নিশ্চিত। তবে কবে সেটা সমাধান হবে তা বলতে পারছি না।
তিস্তার পানি বন্টনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয় গত বছরের ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক।







