গত কয়েকটি নির্বাচনের মতো বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়েও রিসার্চ ডেভেলপমেন্ট সেন্টার-আরডিসিকে দিয়ে জরিপ চালিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। ওই জরিপের ফলাফলে তিন সিটিতেই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থীদের বিজয়ের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
মাসব্যাপী পারিচালিত আরডিসির জরিপে উঠে এসেছে, কোন দলের প্রার্থী কতটা এগিয়ে রয়েছে।
২০১৮ সালের জুলাই মাসে করা জরিপে বরিশালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ এগিয়ে রয়েছেন ৪৪ শতাংশ সমর্থন নিয়ে, রাজশাহীতে খায়রুজ্জামান লিটন ৫৮ শতাংশ এবং সিলেটে বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান এগিয়ে রয়েছেন ৩৩ শতাংশ ভোটারের সমর্থন নিয়ে।
ওই জরিপে সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মূল প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে বরিশালে মজিবর রহমান সরোয়ারের পক্ষে বলেছেন ১৩.১ শতাংশ ভোটার, রাজশাহীতে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের পক্ষে ১৬.৪ শতাংশ এবং সিলেটে আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন ২৮.১ শতাংশ ভোটার।
এছাড়া বরিশালে অন্যান্য প্রার্থীদের সমর্থন দিয়েছেন ০.৮ শতাংশ ভোটার।সিদ্ধান্তহীন ছিলেন ২৩.৫ শতাংশ এবং উত্তর দেননি ১৫.৯ শতাংশ ভোটার।বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ১,২৪১ নিবন্ধিত ভোটারের মাঝে এই জরিপটি চালানো হয়।
রাজশাহীতে অন্যান্য প্রার্থীদের সমর্থন দেন ০.৯ শতাংশ ভোটার। সিদ্ধান্তহীন ছিলেন ১২.৩ শতাংশ এবং উত্তর দেননি ৯.৬ শতাংশ ভোটার। সিটি কর্পোরেশনের ১,২৯৪ নিবন্ধিত ভোটারের মাঝে এই জরিপটি চালানো হয়।
সিলেটে জরিপ চালানো হয় ১,১৯৬ নিবন্ধিত ভোটারের মাঝে। সেখানে অন্যান্য প্রার্থীরা ভোটারের সমর্থন পান ১.৩ শতাংশ। সিদ্ধান্তহীন ছিলেন ২৩.০ শতাংশ এবং উত্তর দেননি ১২.৬ শতাংশ ভোটার।
এ নিয়ে ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে জয় বলেন, এই জরিপে অংশ নিয়েছে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত ভোটাররাই। আরডিসির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে বিগত পাঁচ বছর ধরে বিভিন্ন মতামত জরিপ পরিচালনা করা হচ্ছে। তাদের গবেষণা পদ্ধতি ও ফলাফল আমার কাছে সবসময় খুবই সঠিক মনে হয়েছে।
‘তবে মধ্যরাত পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণায় ফলাফলে আরো একটু পার্থক্য আসতে পারে। গবেষণায় আসা তথ্য ভুলের মাত্রা ধরা হয় + থেকে -২.৫ পর্যন্ত।’
তিনি যোগ করে বলেন, তাই গবেষণা থেকে বলা যায় বরিশাল ও রাজশাহীতে আওয়ামী লীগ সহজেই এগিয়ে থাকবে। তবে সিলেটে আমরা অল্প খানিকটা এগিয়ে রয়েছি তবে সেটাও বলার মতো নয়।
ফেসবুক পোস্টে জয় আরো বলেন, বিএনপি ক্রমাগত অভিযোগ করেই যাচ্ছে। সত্য কথা হচ্ছে তারা তাদের সমস্ত জনপ্রিয়তা হারিয়েছে। আর বিগত বছরগুলোতে আরো বেশি বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে আওয়ামী লীগ। বিএনপি আর এখন আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী নয়।
তারপরও গাজীপুর নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে এই তিন সিটি নির্বাচনের সময়ে দলের সদস্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের আরো বেশি সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সজীব ওয়াজেদ জয়।







