মাত্র তিনজন ছাত্র ও একজন শিক্ষক নিয়ে চলছে ১৫৫ বছরের ঐহিত্যবাহী কলেজ। ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের বিজয়ানগরের এই কলেজে শিক্ষক হিসেবে আছেন অধ্যক্ষ নিজে।
১৮৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত কলেজটি ১৯৫০ ও ২০০৪ সালের বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পায়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি সংস্কৃত হাই স্কুল এবং মহারাজা অফ বিজয়ানগর কলেজ এই দুই ভাগে চলছে। ১৩ শিক্ষক আর ৩৭১ ছাত্র নিয়ে স্কুল শাখা চললেও কলেজ শাখায় তিন ছাত্রের সঙ্গে শিক্ষক সংখ্যা এক।
সম্প্রতি সংস্কৃত ভাষার সাথে ইংরেজি এবং তেলেগু ভাষায় চার বছর মেয়াদী কোর্স খুললেও ঐতিহ্যবাহী এই কলেজে কেউ ভর্তি হচ্ছে না। প্রতি বিভাগে ৩০ আসনের বিপরীতে ছাত্র নেই একজনও। সরকারেরও নজর নেই ঐহিত্যবাহী এই কলেজের দিকে। ২০০৩ সালের পর কলেজটিতে সংস্কারমূলক কোনো কাজও হয়নি।
কলেজের প্রশাসনিক অফিসার রামা রাও বলেন, এক দশক আগেও সংস্কৃত বিভাগে অন্তত ২০ জন ছাত্র ভর্তি হতো। কিন্তু গত কয়েক বছরে তা পাঁচের নিচে নেমে এসেছে। বর্তমানে কলেজে বিএ প্রথম বর্ষের দু’জন এবং একজন প্রি-ডিগ্রির ছাত্র আছে। আসলে কেউই এখানে ভর্তি হতে চাচ্ছে না।
ছাত্র ভর্তি না হওয়ার কারণ হিসেবে কলেজের কর্মচারিরা জানান, এই কলেজে বেশিরভাগ গরিব ছাত্র-ছাত্রীরা ভর্তি হতো। কিন্তু সংস্কৃত ভাষায় পড়ে ছাত্ররা চাকরি না পাওয়ায় এই বিষয় পড়তে আগ্রহী না। ‘সংস্কৃত ভাষাকেতো ব্যাপকভাবে উপেক্ষা করা হচ্ছে। তাই ছাত্ররা যে বিষয় পড়লে সহজে চাকরি পাওয়া যায় সে বিষয়ে পড়ছে।’
১৯৯৯ সালে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেওয়ার পর এখন প্রিন্সিপাল হয়েছেন স্বপ্না হান্দাভি। তিনি বলেন, সরকার কোনো সাহায্য করে না, বৃত্তি দেয় না, ছাত্রদের চাকরিরও কোনো সুযোগ নেই। তাই কেউ এই পুরনো ভাষা বিষয়ে পড়তে আগ্রহী হচ্ছে না।






