দেশজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো তা নিয়ে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবনে আনুষ্ঠানিক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘অভিযান নিয়ে অনেক বড় পত্রিকা সমালোচনা করছে। আমি আপনাদের জিজ্ঞেস করতে চাই, আপনারা কোনটা চান? অভিযান চলুক নাকি বন্ধ হয়ে যাক? আমি শুধু বলবো: কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মনে রাখবেন, আমি যখন ধরি ভালো করেই ধরি।’
তার এ বক্তব্যে আমরা নিশ্চিতভাবেই ধরে নিতে পারি, মাদকের বিরুদ্ধে এ অভিযান চলবে। এ নিয়ে মানবাধিকারকর্মীরা যতই সমালোচনা করুক না কেন; অভিযান থামছে না। এমনকি এ বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশের পরামর্শও গ্রহণযোগ্য হবে না।
সংবাদ সম্মেলনে ‘মাদকের গডফাদাররা পার পেয়ে যাচ্ছে’ এমন অভিযোগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলছেন, ‘কে গডফাদার কে কী এটা আমরা বিচার করছি না। গোয়েন্দা সংস্থা অনেক দিন ধরে কাজ করেছে। আপনারা যেটা ভাবছেন সেটা না। হুট করেই এ অভিযান শুরু হয়নি। গডফাদার যেই থাকুক ছাড়া হচ্ছে না, হবে না।
এটা ঠিক, চলমান অভিযানে এখন পর্যন্ত মাদকের গডফাদার হিসেবে সুপরিচিত কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সমালোচনা আছে পরিচিত একজন সংসদ সদস্যকে নিয়েও। তবে প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর অনেকেই আশা করছেন, এবার মাদকের গডফাদারদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যদি এসব গডফাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হয়; তাহলে যত বড় আর যত ব্যাপক অভিযানই চালানো হোক না কেন- তার সফলতা নিয়ে প্রশ্ন থাকবেই। কারণ মাদকের মূল রেখে তার ডালপালা ছাঁটা হলেও কিছুদিন পর তা আবার বড় বৃক্ষে পরিণত হবেই।
এই অভিযানে দু’একটি ঘটনা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর একরামুল হকের নিহত হওয়ার ঘটনা। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, একটা অভিযান চালাতে গেলে কিছু অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটতেই পারে। তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন, কোনো নিরীহ ব্যক্তি শিকার হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমরাও তাই চাই। এ অভিযানে কোনো ব্যক্তি যেন অন্যায়ের শিকার না হন। সবচেয়ে বড় কথা; যেভাবেই হোক মাদক বন্ধ করতে হবে। তা না হলে দেশ মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্ত হবে না।







