বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাগরিকত্ব বিতর্ক নিয়ে বিএনপির শীর্ষ কয়েকজন নেতার করা মন্তব্যর জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম তার ফেসবুক পেজে বলেছেন, রিজভী সাহেব চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন ফিরিয়ে দেয়া পাসপোর্ট থাকলে তা দেখাতে। গতকাল তা মিডিয়ায় দেখিয়ে উল্টো চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম, তাদের পরিবারের পাসপোর্ট ফেরত দেয়া না হলে তারা দেখাক অথবা মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করলে তাও প্রমাণ সহ বলুক।
আজকে তারা পিছুটান দিয়ে মির্জা ফখরুল সাহেব স্বীকার করেছেন যে, তারেক রহমান পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন! এবং এটাও বলেছেন তিনি সাময়িকভাবে বিদেশে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন।
যে তথ্য আমি ২০১৫ এবং ২০১৭ সালে প্রকাশ করেছি। তা নিয়ে শুধু শুধু ঘাঁটাঘাঁটি করতে গিয়ে তারা নিজেরাই আরও ঝামেলায় পড়েছেন।
সকলেই আশা করি জানেন এবং বোঝেন, যে রাজনৈতিক আশ্রয় নিতে হলে অন্যদেশের নাগরিকত্ব পরিহার করতে হয়, সাময়িক হলেও। কারণ রাজনৈতিক আশ্রয়ের মূল যুক্তিই দেয়া হয় যে, আপনার দেশে আপনার স্থান নেই। পাসপোর্ট ফেরত দেয়ার মূল কারণ এবার বোঝা গেলো।
আমাদের মূল প্রশ্নটি হলো যে নিজের অবস্থান জনগণের কাছে পরিষ্কার করেনা বা সংকোচ বোধ করে তার কোন নৈতিক অধিকার থাকেনা রাজনীতি করার, দলের সাময়িক প্রধান তো দূরের কথা।’
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২ জুন তারেক রহমান, তার স্ত্রীর এবং সন্তানের পাসপোর্ট বাংলাদেশ দূতাবাসে ফেরত দেয় যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ায় তারেক এখন বাংলাদেশের নাগরিক নন।
তারেক রহমানের পাসপোর্ট জমা দেওয়ার বিষয়ে গণমাধমে বক্তব্য দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠায় বিএনপির এক আইনজীবী।
সে নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে ফেরার ইচ্ছে নেই বলেই হয়তো পাসপোর্ট ফিরিয়ে দিয়েছেন।
‘২০০৮ সালে তিনি যখন লন্ডনে যান তখন স্মার্ট কার্ডও ছিল না। পাসপোর্ট তার একমাত্র পরিচয়পত্র ছিল। সেই পাসপোর্ট তিনি সারেন্ডার করেছেন। তিনি আবেদনও করেননি নতুন পাসপোর্টের জন্য।’
এ বিষয়ে আজকে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়: তারেক রহমান নাগরিত্ব বর্জন করেননি। রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র বিভাগে তার পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন বলে দাবি করেছে বিএনপি। রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার স্বাভাবিক অংশ হিসেবেই তিনি পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। সে দেশে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার পাসপোর্ট জমা রেখে তাকে ট্রাভেল পারমিট দেয়া হয়েছে বলে জানায় বিএনপি।









