দীর্ঘ ৯ মাসের মহান মুক্তিযুদ্ধে বহু ত্যাগের বিনিময়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল বাংলাদেশ। সেসময়ের বাংলাদেশ ছিল নানা পরিসংখ্যানের বিচারে পৃথিবীর দরিদ্রতম একটি দেশ। তখন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। ক্ষুধা-বন্যার নিয়মিত তকমার সঙ্গে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ও যেন ছিল নিয়তি। ওই অবস্থা থেকে ৫০ বছরে এক সম্ভাবনার বাংলাদেশ হিসেবে বিশ্বের দরবারে নিজেদের প্রমাণ করতে পেরেছে।
এ বছর ১৬ ডিসেম্বরে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী, ৫০ বছরে পা দিলো স্বাধীন বাংলাদেশ। রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপন হচ্ছে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী। এ উপলক্ষে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্র প্রধানরা ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশে আসছেন। অংশ নিচ্ছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর যৌথ অনুষ্ঠানে। গত ১৭ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ১০ দিন ব্যপী বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আর সুবর্ণ জয়ন্তীর উদযাপন উপলক্ষে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে।
একটি দেশ যখন পৃথিবীর বুকে জন্ম নেয়, সেসময় থেকে চলমান বর্তমান পর্যন্ত নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে এগিয়ে যায়, নয়তো সমস্যায় জর্জরিত হয়ে আরও অধ:পতন হয়। ১৯৭১ সালের কাঙ্খিত বিজয়ের পরেও প্রাকৃতিক থেকে শুরু করে মানবসৃষ্ট নানা প্রতিকূলতা-দুর্যোগ সহ্য করেছে বাংলাদেশ। তারপরও ধীরে ধীরে এগিয়েছে দেশ।
উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়া বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম অর্জন। মহামারি করোনাকালীন সময়ে বিশ্বের সব দেশে যখন প্রবৃদ্ধির হার কমে যাচ্ছে, তখন বাংলাদেশে আকর্ষণীয় প্রবৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে। রপ্তানি ও রেমিট্যান্সের প্রভাবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় গিয়েছে। ৭০ দশকে যেখানে দেশের জাতীয় বাজেটের আকার ছিল হাজার কোটি টাকার নীচে, সেখানে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর অর্থবছরে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে বহুগুণ, একই সঙ্গে বেড়েছে রপ্তানি পণ্যের সংখ্যাও।
যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের অবকাঠামো থেকে উঠে দাঁড়িয়ে ধীরে ধীরে দেশের অবকাঠামো এখন বিশ্বমানের। দেশে অনেক উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে, বড় বড় ফ্লাইওভার করা হয়েছে, মেট্রোরেল মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, মহাকাশে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হয়েছে, দেশজুড়ে রাস্তাঘাট কালভার্ট নির্মাণ করা হচ্ছে, দেশের সর্ববৃহৎ পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ নিজস্ব অর্থায়নে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। কৃষি, খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ, নারীর ক্ষমতায়ন, আর্থ-সামাজিক প্রতিটি সূচক ও জরিপে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এগিয়ে যাবার নানা পরিসংখ্যানের পাশাপাশি রয়েছে অনেক অপ্রাপ্তিও। শিক্ষা, মানবাধিকার ও সুশাসনের নানা বিষয়ে কিছু প্রতিকূলতা থাকলেও গড় ফলাফলে বাংলাদেশের অর্জন অবশ্যই বিশ্বমানের।
স্বাধীনতার পরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান থেকে শুরু হয়ে বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে ইতিবাচক ধারায়। বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক, অতীত-বর্তমান থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রতিকূলতা ঠেলে অপ্রাপ্তিকে অর্জনে পরিণত করে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শিখি আমরা। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে এই আমাদের প্রত্যাশা।







