শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেছেন, অন্যান্য প্রযুক্তি কোম্পানি থেকে আলাদা হয়ে আইসিটি সেক্টরে তরুণদের জন্য কাজ করে যাচ্ছে হুয়াওয়ে।
‘‘এরফলে শিক্ষার্থীদের জানা ও শেখার আগ্রহ সৃষ্টি হচ্ছে, তাই আমি হুয়াওয়েকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।”
মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে শীর্ষস্থানীয় আইসিটি অবকাঠামো প্রদানকারী হুয়াওয়ের ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রাম ‘সিডস ফর দ্যা ফিউচার ২০২২, বাংলাদেশ’ -এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন: আইসিটি বিষয়ে আগ্রহী দেশের সকল শিক্ষার্থীদের আরও আগ্রহী করে তুলতে এবং এই শিল্পখাত সম্পর্কে সম্যক ধারণা দিতে বাংলাদেশে ২০১৪ সাল থেকে প্রতি বছর হুয়াওয়ে এই প্রোগ্রামটি আয়োজন করে থাকে।
“আমাদের এখানে অনেক দেশের অনেক প্রযুক্তি কোম্পানি আছে যারা বাংলাদেশে ব্যবসা করছে। কিন্তু খুব কম প্রতিষ্ঠানই শুধুমাত্র সেই ব্যবসার তাগাদা থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের তরুণদের, আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে দক্ষ হতে সহায়তা করছে। হুয়াওয়ে এক্ষেত্রে অন্যদের থেকে আলদা হয়ে তরুণদের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।’’
মহিবুল হাসান চৌধুরী আরও বলেন, “অন্য আর একটি বিষয় হল, এই সিডস ফর দ্যা ফিউচার প্রোগ্রাম শুধুমাত্র স্টেম নয়, নন-স্টেম শিক্ষার্থীদের নিয়েও কাজ করে। এটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ; কারণ প্রায়ই আমরা দেখতে পাই যে নন-স্টেম শিক্ষার্থীরাও দারুণ সব উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে আসে। আর আমরা এখন বিশ্বব্যাপী যে প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের দেখতে পাই তাদের অনেকেই সামাজিক বিজ্ঞান থেকে পড়াশোনা করে এসেছেন।”
হুয়াওয়ের সিইও প্যান জুনফেং বলেছেন, “তরুণদের জ্ঞান আহরণ এবং চিন্তা-চেতনা বিকাশের জন্য প্ল্যাটফর্ম তৈরির লক্ষ্যে হুয়াওয়ে বিভিন্ন প্রোগ্রামের আয়োজন করে আসছে। ‘সিডস ফর দ্যা ফিউচার’ এমন একটি প্রোগ্রাম যেখানে অংশগ্রহণকারীরা সরাসরি বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে ইন্ডাস্ট্রির কাজ সম্পর্কে জানতে পারে এবং তাদের নিজস্ব দক্ষতা যাচাই করতে পারে। ’’
এপ্রিলের শুরুতে এই প্রোগ্রামটির নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং ইতোমধ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েকটি রোডশো অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বছর নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই প্রোগ্রামে অংশ নিচ্ছে এবং সর্বশেষ বিজয়ীরা পরবর্তী পর্যায়ে বিভিন্ন দেশের অন্যান্য বিজয়ীদের সাথে গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণ করবে। এর মাঝে তারা হুয়াওয়ের একটি গ্লোবাল ট্রেনিংয়েও অংশগ্রহণ করবে।

এই বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট), রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট), ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি), ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি (ইডব্লিউইউ) এবং আহসানুল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এইউএসটি) প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করছে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর ইউ লিউয়েন, হুয়াওয়ে বাংলাদেশের বোর্ড মেম্বার জেসন লি জংশেং, শিক্ষাবিদ, হুয়াওয়ের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, ইন্ডাস্ট্রি স্টেকহোল্ডার এবং অংশগ্রহণকারীরাও উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশে একটি ভালো আইসিটি ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে এবং দেশকে ডিজিটাল রূপান্তরের সুফল পেতে বিভিন্ন উপায়ে অবদান রাখছে হুয়াওয়ে। ২০০৮ সালে থাইল্যান্ডের চালু করার মধ্য দিয়ে বিশ্বব্যাপী ‘সিডস ফর দ্যা ফিউচার’ প্রোগ্রামের যাত্রা শুরু করে হুয়াওয়ে। এখন পর্যন্ত, এই প্রোগ্রামটি বিশ্বব্যাপী ১৩৭টি দেশে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং বিশ্বের প্রায় ১২,০০০ শিক্ষার্থী এবং ৫০০ -এরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় এই উদ্যোগের মাধ্যমে উপকৃত হয়েছে।







