আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, তাহলে কী আপনারা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর ভোটারবিহীন নির্বাচনের মতো আরেকটি নির্বাচনের নীল নকশা প্রস্তুত করে রেখেছেন?
‘আওয়ামী লীগই আগামীতে ক্ষমতায় আসবে’ ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রিজভী শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্ন তোলেন।
রিজভী বলেন, ভোটারবিহীন নির্বাচনে এতটাই মজা পেয়েছেন যে, তারা সেই অবৈধ পথ ছাড়তে চাচ্ছেন না। ওবায়দুল কাদের সাহেবের এই বক্তব্য আগামী নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা ও ষড়যন্ত্রের ক্ষণে ক্ষণে একটা নৈরাজ্যের কালো রাতের আভাস মেলে। কিন্তু এবারেই দুঃশাসনের ঘন অন্ধকারের অবসান ঘটবে। মানুষের ঘৃণা-ধিক্কারে অবৈধ ক্ষমতাসীনরা আর টিকে থাকতে পারবে না। ভোটারবিহীন নির্বাচনের স্বপ্ন আর পূরণ হবে না। বিভীষিকাময় রক্তাক্ত প্রান্তর সৃষ্টি করে আর প্রধানমন্ত্রীত্ব করা যাবে না।
গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য- ‘আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় নিখোঁজরা ফিরতে শুরু করেছে’ এর সমালোচনা করেন রিজভী।
তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আমাদের প্রশ্ন, তাহলে কাদের তৎপরতায় নিখোঁজ ব্যক্তিরা গুম হয়েছিল ? যারা দীর্ঘ ৯ বছর ধরে ভীতির শিহরণে গোটা জাতিকে রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে গুমের হিড়িক চালিয়েছে তারা কারা ? তাহলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী কি আমরা ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, সাইফুল ইসলাম হিরু, পারভেজ, সুমন, খালেদ হোসেন সোহেল, কাজী ফরহাদ, মোঃ জহির, সুজন, সেলিম রেজা পিন্টু, ছাত্রনেতা জাকিরসহ গুম হওয়া কমপক্ষে ৭৫০ জন বিএনপি নেতাকর্মীদের ফিরিয়ে পেতে অপেক্ষা করবো ? নিখোঁজ কয়েকজনকে ফেরত দেয়ায় গুম থাকা ব্যক্তিদের পরিবারগুলো কি তাহলে তাদের ফিরিয়ে পেতে আশায় বুক বাঁধবে ? বিএনপি নেতাকর্মীদের বাইরেও সাবেক সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা, আইনজীবী, রাষ্ট্রদূত, শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী যারা গুম হয়েছেন তাদের পরিবারও নিখোঁজ স্বজনদের অপেক্ষায় আছে। তাদেরকে ফিরিয়ে দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এসময় রিজভী প্রশাসনের কড়া সমালোচনা করে বলেন, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ১৯৬জন কর্মকতাকে পদোন্নতিসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় যা নজিরবিহীন। আওয়ামী লীগের আমলে বলেই তা সম্ভব। এবারও শত শত যোগ্য ও মেধাবি কর্মকর্তাকে পদোন্নতি বঞ্চিত করা হয়েছে। যোগ্যতা থাকার পরও পদোন্নতি না পাওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন অনেকেই। গভীর রাতে পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন জারি নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন।
এ পদোন্নতি রহস্যজনক এবং সর্বমহলে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন রিজভী।








