বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের কাছে যুক্তরাষ্ট্র এখন রাশিয়ার চেয়েও বেশি নেতিবাচক ভাবমূর্তির দেশ হিসেবে দেখা দিচ্ছে এমন তথ্য উঠে এসেছে এক আন্তর্জাতিক জরিপে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির নানা সিদ্ধান্ত ও বৈশ্বিক অবস্থান পরিবর্তনের প্রভাবেই এই মনোভাব তৈরি হচ্ছে।
ডয়েচ ভেলে জানিয়েছে, ৮৫টি দেশের ৪৬ হাজার মানুষের অংশগ্রহণে পরিচালিত ওই জরিপে ১৩২টি দেশের ভাবমূর্তি মূল্যায়ন করা হয়। সেখানে দেখা যায়, দুই বছর আগে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের জনমত স্কোর ছিল ইতিবাচক ২২ শতাংশ, বর্তমানে তা নেমে দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ১৬ শতাংশে। তালিকায় দেশটির অবস্থান ১২৮তম।
অন্যদিকে, একই জরিপে রাশিয়ার স্কোর ঋণাত্মক ১১ শতাংশ এবং চীনের স্কোর ইতিবাচক ৭ শতাংশ পাওয়া গেছে। ফলে জনমতের বিচারে যুক্তরাষ্ট্র এখন রাশিয়ারও পেছনে অবস্থান করছে। জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের কাছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় হুমকি কোন দেশ এমন প্রশ্নও করা হয়। সেখানে ইসরায়েল ও রাশিয়ার পর তৃতীয় সর্বাধিক উল্লেখিত দেশ ছিল যুক্তরাষ্ট্র।
গত ১৮ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির বেশ কিছু পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন, ব্যাপক শুল্ক আরোপ এবং ন্যাটোভুক্ত মিত্র দেশের ভূখণ্ড নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ২৬ শতাংশ দেশ যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ইতিবাচক মত প্রকাশ করেছে।
সবচেয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখা গেছে ইসরায়েল, ডোমিনিকান রিপাবলিক ও নাইজেরিয়ায়। অন্যদিকে সবচেয়ে নেতিবাচক মনোভাব পাওয়া গেছে তিউনিসিয়াতে। চলতি বছরের মার্চ ও এপ্রিল মাসে এই জরিপ পরিচালিত হয়। এটি আয়োজন করা হয়েছিল কোপেনহেগেন ডেমোক্রেসি সামিট উপলক্ষে।
এই বিষয়ে অ্যালায়েন্স অব ডেমোক্রেসিস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা এবং সাবেক ন্যাটো প্রধান আন্ডার্স ফগ রাসমুসেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পররাষ্ট্রনীতি ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ককে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।








