রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির উপর নির্মম গণহত্যা ও তাদের দেশ ত্যাগে বাধ্য করে বিশ্বজুড়ে নিন্দা ও প্রতিবাদের পরও নানা কর্মকাণ্ড দিয়ে আলোচনায় মিয়ানমার। আজ শনিবার মিয়ানমার সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে রাখাইন রাজ্যের সীমান্তে বেড়া দিতে দেড় কোটি ডলার বা প্রায় ১২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদন দিয়েছে। এ বিষয়ে উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেনারেল অং সোয়ে বলেন, সীমান্তের ২৯৩ কিলোমিটারের মধ্যে ইতোমধ্যে ২০২ কিলোমিটারে বেড়া নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। বাকী বেড়া নির্মাণে এই অর্থ ব্যয় করা হবে। গতকাল শুক্রবার আরেকটি কর্মকাণ্ডের কারণে বিভিন্ন গণমাধ্যমের শিরোনামে ছিল মিয়ানমার। রোহিঙ্গাদের যেসব গ্রামগুলো পুড়িয়ে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছিল মিয়ানমার সেনাবাহিনী, সেইসব ধ্বংসস্তূপ বুলডোজার দিয়ে সাফ করে নির্যাতন ও ধ্বংসের চিহ্নও মুছে ফেলছে তারা। নিষ্ঠুরতা-নৃশংসতার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নষ্ট করতেই এই অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। এই বিষয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি প্রমাণ হিসেবে প্রকাশ করেছে। প্রকাশ পাওয়া ওইসব ছবিতে দেখা গেছে, গত বছরের ২৫ আগস্টের পর থেকে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী আগুন দিয়ে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের যে ৫৫টি গ্রামসহ ৩৬২টি গ্রাম সম্পূর্ণ বা আংশিক ধ্বংস করেছে, সেইসব গ্রাম সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বুলডোজার চালিয়ে সমান করে ফেলা হয়েছে। গ্রামগুলোতে চালানো জ্বালাও-পোড়াওয়ের চিহ্ন মুছে ফেলার মিয়ানমার সরকারের এই তৎপরতাকে নিন্দা জানিয়েছে সংস্থাটি। হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের পরে প্রাণ বাঁচাতে প্রায় ৭-৮ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল বিষয়টি নিয়ে তদন্ত ও নানামুখি পদক্ষেপ নিয়েছে, এই অবস্থায় মিয়ানমারের এই ধরণের পদক্ষেপ আসলেই উদ্বেগজনক। একতরফা গোয়ার্তুমি আর নানা অজুহাতে তারা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে টালবাহানা করছে বলে আমাদের মনে হচ্ছে। এতোসব ঘটনার মাঝে আজই আবার রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিতওয়েতে পরপর তিনটি বোমা বিস্ফোরিত হয়েছে। বিস্ফোরণে একজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছে। হয়তো এ ধরণের ঘটনায় তারা আবার নতুন কোনো অজুহাত বা প্রেক্ষাপট দাঁড় করাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে। বিভিন্ন বন্ধু রাষ্ট্রকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণভাবে ফেরাতে আন্তরিক চেষ্টা করে যাচ্ছে। এই চেষ্টার সঙ্গে সঙ্গে মিয়ানমারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের উপরে কড়া নজর অব্যাহত থাকুক, এই আমাদের প্রত্যাশা।








