ভারতকে হোয়াইট ওয়াশ করা না গেলেও বিস্ময় বালক মুস্তাফিজ আলোয়ই শেষ হয়েছে বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ যে সিরিজ প্রথমবারের মতো টাইগারদের। শেষ ম্যাচে বোলিংয়ে আগের দুই ম্যাচের মতো সফল না হলেও আলো ছড়িয়েছেন মুস্তাফিজ। শেষদিকে নেমে কিছুটা হলেও দেখিছেন তার ব্যাটিং। হয়েছেন ম্যান অব দ্যা সিরিজও। জীবনে প্রথম ওয়ানডে খেলতে নেমেই সিরিজকে পুরোপুরি নিজের করে নিয়েছেন তিনি।
শুধু আক্ষেপ যে মিরপুরে শেষ ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৭৭ রানের জয় পেয়েছে ভারত যে সান্ত্বনার জয়ে হোয়াইট ওয়াশের লজ্জা থেকে কোনোভাবে বেঁচেছে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে দুইয়ে থাকা মহেন্দ্র সিং ধোনির দল।
ভারতের ছুড়ে দেওয়া ৩১৭ রানের জবাবে স্বাগতিকদের পক্ষে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই তামিম ইকবালের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। কুলকারনির বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরার আগে তামিমের সংগ্রহ ছিলো ৫ রান। এরপর দলের হাল ধরেন সৌম্য সরকার ও লিটন দাস। সৌম্য ব্যক্তিগত ৪০ রানে আউট হন ।
সৌম্যের বিদায়ের পর লিটনকে সঙ্গি করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান মুশফিকুর রহিম। কিন্তু মাত্র ৩৯ রানের ব্যবধানে মুশফিক-লিটন-সাকিব আউট হলে চাপে পড়ে টাইগার ব্যাটিং লাইন-আপ। লিটন ৩৪, মুশফিক ২৪ ও সাকিব ২০ রানে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন।
শেষ ভরসা নাসিরও ব্যক্তিগত ৩২ রানে ফিরে গেলে হারের দ্বারপ্রান্তে পৌছে ‘টিম টাইগার্স’। শেষ পর্যন্ত রুবেল ২ ও মুস্তাফিজ ৯ রানে রাইডুর শিকারে পরিণত হলে ৭৭ রানে পরাজয় দেখে বাংলাদেশ।
এর আগে টাইগারদের বিপক্ষে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে ধোনি বাহিনী সংগ্রহ করে ৩১৭ রান। শেখর ধাওয়ানের ৭৫, মহেন্দ্র সিং ধোনির ৬৯ এবং রাইডুর ৪৪ রানের উপর ভর করে সফরকারিরা বড় সংগ্রহ করে।
বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নেন মাশরাফি বিন মুর্তজা।
মান বাঁচানোর ম্যাচে শুরুটা ভালো করলেও স্কোর বোর্ডে ৩৯ রান যোগ না হতেই রোহিত শর্মাকে ফিরিয়ে টাইগার সাফল্য এনে দেন প্রথম দুই ম্যচে ভারতের বিশ্ব সেরা ব্যাটিং লাইন আপের সামনে কাটার-স্লোয়ারের মায়াবী জাল বিছানো মুস্তাফিজ।
এরপরই বিপদজ্জনক হয়ে ওঠা কোহলি-ধাওয়ানের ৭৫ রানের জুটি ভাঙেন সাকিব আল হাসান। ৩৫ বল থেকে ২৫ রান করা কোহলি সাকিবের বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন।
কোহলির বিদায়ে ধাওয়ানের সঙ্গি হন দলপতি মহেন্দ্র সিং ধোনি। বিপজ্জনক হওয়া হয়ে ওঠা ধোনি-ধাওয়ান জুটি ভাঙ্গে মাশরাফি বিন মুর্তজা। ধাওয়ান নাসিরের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ৭৩ বল থেকে সংগ্রহ করেন ৭৫ রান।
ধোনি-রাইডুর ৯৩ রানের জুটি ভাঙলেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। মাশরাফির বলে উইকেটের পেছনে থাকা লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন রাইডু। ফেরার আগে ৪৮ বল খেলে সংগ্রহ করেন ৪৪ রান।
রাইডুর বিদায়ে ধোনির সঙ্গি হন সুরেশ রায়না। তবে ধোনি তাকে বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে পারেনি। মাশরাফির তৃতীয় শিকারে পরিনত হয়ে ফিরে যান তিনি। ধোনির ৬৯ রানের ইনিংটি ছিলো ৬ চার ও ১টি ছয়ের মার।
এরপর ‘সাতক্ষীরা সায়ানাইড’ মুস্তাফিজের শিকার হয়ে ফেরেন সুরেশ রায়না। ৩১ বল থেকে তিনি সংগ্রহ করেন ৩৮ রান।






