কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একজন আটকের সংবাদ পাওয়া গেলেও অস্বীকার করছে স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষ। আটক ওই তরুণের পরিবার কুমিল্লা সেনানিবাসে বাস করে এবং সে ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বলে বিশেষ সূত্রে জানা গেছে।
প্রাইভেট পড়াতে যাওয়ার সময় ওই তরুণ প্রায়ই তনুকে উত্যক্ত করতো বলে তনুর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে কুমিল্লার পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন কাউকে গ্রেপ্তারের কথা অস্বীকার করেছেন।
পুলিশ সুপার জানান, তনু হত্যার বিষয়ে এখনো পর্যন্ত সংবাদ মাধ্যমকে দেয়ার মতো কোন তথ্য নেই। সুনির্দিষ্টভাবে কোনো কিছু না জানা পর্যন্ত আমরা কিছু বলছি না।
তিনি আরও বলেন, নিহত তনুকে ফোনে কেউ বিরক্ত করতো বলে তার ফেসবুকে যে নম্বর আছে সে সম্পর্কে এবং কেউ তাকে বিরক্ত করতো কিনা সে সম্পর্কে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। তার পরিবার আমাদের কিছু জানায়নি।
পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন জানান, পোষ্টমর্টেমের কিছু পদ্ধতিগত বিষয় আছে। সে ধর্ষিত হয়েছে কিনা, তাকে হত্যা করা হয়েছে কিনা সব কিছু সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে কিছু বলতে পারছি না।
এ বিষয়ে সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পরদিনই এক যুবককে আটকের পর তার ফিঙ্গার প্রিন্ট নেয়া হয়। এরপর থেকে তার আর খোঁজ নেই। তাকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেয়া হয়ে থাকতে পারে।
কুমিল্লা সেনানিবাসের ৫৮/১ পাহাড় হাউসে বসবাস করা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ইতিহাসের ২য় বর্ষের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর সাথে সবার সুসম্পর্ক ছিলো। তিনি বড় হয়েছেন কুমিল্লা সেনানিবাসে। মাঝখানে শুধুএক বছর তিনি ক্যান্টনমেন্টে ছিলেন না। তার স্কুল জীবনও কেটেছে কুমিল্লা সেনানিবাসে।
সেনানিবাসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও যোগ দিতেনন তিনি। স্কুল ও কলেজের সবাই তাকে পছন্দ করতো। তনু হত্যার ঘটনার বিচারের দাবিতে কুমিল্লার স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সারাদেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
ওদিকে, কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইন শৃঙ্খলা কোরের এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে জেলা প্রশাসক হাসানুজ্জামান কল্লোল, পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন, ডিজিএফআই-এর সাজ্জাদ হোসেন, বিজিবির কমান্ডার লে. কর্নেল মোখলেসুর রহমান, র্যাব ১১ এর ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানির কমান্ডার এবংএনএসআই-এর মজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক হাসানুজ্জামান কল্লোল সকলের সহযোগিতা চেয়ে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, তনু হত্যার বিষয়ে কারো কাছে কোনো তথ্য থাকলে তা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো দরকার। আমরা সকলের সহযোগিতা চাই।






