কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যাসহ গুম-খুন
নারী-শিশু ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদ এবং বিচার দাবিতে রাজধানীসহ সারা দেশে
অর্ধদিবস হরতাল পালিত হয়েছে। হরতাল পালনে সারাদেশ থেকে ৩০ জন আটকসহ
ছাত্রলীগ ও পুলিশের হামলায় শতাধিক আহত দাবি করে আগামীকাল বিক্ষোভ মিছিল ও
সমাবেশের ডাক দিয়েছে আন্দোলনকারীরা।
হরতাল পালনের সময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক থেকে ১৩ জনকে আটক করে পুলিশ। এরা প্রগতিশীল ছাত্র জোট ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ছাত্র ঐক্য’র নেতাকর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।
সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ হরতালের ডাক দেয় প্রগতিশীল ছাত্রজোট, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ছাত্র ঐক্য ও জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চ। হরতালে সিপিবি, বাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টিসহ ১৪টি রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক-পেশাজীবী ও নারী সংগঠন সমর্থন জানায়।
সকালে হরতালের সমর্থনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মিছিল বের করা হয়। সকাল নয়টা থেকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। শুধুমাত্র এ্যাম্বুলেন্স আর হাসপাতালের রোগী ছাড়া সব গাড়ি ঘুরিয়ে দেয় হরতাল সমর্থকরা। সকাল ১০টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শাহবাগ এলাকায় মোতায়েন করা হয় ৩ প্লাটুন দাঙ্গা পুলিশ।
তনুসহ অব্যাহত গুম-খুন-ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জয় বাংলা গেটের সামনে অবস্থান নেয় হরতাল সমর্থনকারীরা। এসময় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক থেকে ১৩ জনকে আটক করে পুলিশ।

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের কার্যকরী সদস্য তন্ময় ধর বলেন, সকাল থেকেই শান্তি পুর্ণভাবে হরতাল কর্মসূচি পালন করে আসছিল নেতাকর্মীরা। কিছুক্ষণ আগে পুলিশ আমাদের কর্মসূচি কয়েকজন নেতা-কর্মীকে আটক করে নিয়ে যায়।
হরতাল পালনের সময় বরিশালে পুলিশের সাথে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়। এতে আহত অন্তত ১২ জন আহত হয়। অন্যান্য স্থানের মতো হরতাল পালিত হয়েছে নারায়ণগঞ্জেও।
গত ২০ মার্চ রাতে তনুর লাশ কুমিল্লার ময়নামতি সেনানিবাস এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো ওই হত্যাকাণ্ডের রহস্যের জট খুলতে পারেনি।







