এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড় ও উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে সড়ক অবরোধ করেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। এতে রাজধানীর দুই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি শুরু করেন।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো, বৈরী আবহাওয়া পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত রাখা, ১৩ জুলাই প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে যারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি তাদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ।
সকাল ১১টার পর থেকেই শিক্ষার্থীরা সায়েন্সল্যাব এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা সড়কে নেমে অবরোধ শুরু করেন। একই সময়ে উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনেও শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
সায়েন্সল্যাব এলাকায় ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, আব্দুর রউফ কলেজ, নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা ইম্পেরিয়াল কলেজ এবং ক্যামব্রিয়ান কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে অংশ নেন। তারা ‘দফা এক, দাবি এক, মিলনের পদত্যাগ’, ‘আমাদের ন্যায্য দাবি মানতে হবে’ এবং ‘অ্যাকশন, অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
অবরোধের কারণে ধানমন্ডি-নিউমার্কেট সড়ক, নিউ এলিফ্যান্ট রোড এবং মিরপুর রোডের বিভিন্ন অংশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। অনেক যাত্রীকে যানবাহন থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যে যেতে হয়। তবে সিটি কলেজ থেকে মিরপুর রোড এবং ল্যাবএইড হাসপাতালের ইউ-টার্ন হয়ে শাহবাগমুখী লেনে সীমিত আকারে যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বন্যা, জলাবদ্ধতা ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তে হাজারো পরীক্ষার্থী ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। অনেকেই সময়মতো পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি, আবার অনেককে হাঁটুসমান পানি ও বৃষ্টির মধ্যে কেন্দ্রে যেতে হয়েছে।
দুপুর ১২টার দিকে পুলিশের এক অতিরিক্ত উপকমিশনার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি পাঁচজন প্রতিনিধি নিয়ে পরীক্ষা-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিলেও শিক্ষার্থীরা তা প্রত্যাখ্যান করেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
বিক্ষোভ চলাকালে ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজের কয়েকজন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সড়ক ছেড়ে ক্যাম্পাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় কিছু শিক্ষার্থীর সঙ্গে শিক্ষকদের বাকবিতণ্ডা হলেও পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সায়েন্সল্যাব ও উত্তরা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীরা পৌনে ১২টার দিকে উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেছেন। এতে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল দীর্ঘ সময় ব্যাহত থাকে।








