বাংলাদেশ

ঢাবি শিক্ষার্থী সিথীকে অপহরণ চেষ্টাকারীদের শাস্তি দাবি

সিথী কিবরিয়া

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সিথী কিবরিয়াকে অপহরণের চেষ্টা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন তার সহপাঠীরা।

সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ মানবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান সিথীর সহপাঠী ও স্বজনরা।

মানববন্ধনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা বিষয়ক উপ-সম্পাদক সিথী কিবরিয়ার বড় ভাই মাসুদ আল ইসলামসহ সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

সিথী কিবরিয়ার বড় ভাই মাসুদ আল ইসলাম বলেন, ‘গত ০২ জানুয়ারি আমার বোনকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়। আমরা মামলা করতে গেলে পুলিশ আমাদের সহযোগিতা করেনি। তারা মামলা নিতে গড়িমসি করে এবং এর মধ্যে মামলার যে মূল আসামি তফিউজ্জামান জুয়েলসহ অন্যরা গা ঢাকা দেয়।’

‘‘পরে গত ০৪ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী লালমনিরহাট জেলার পুলিশ সুপার বিষয়টি অবহিত হলে মামলা নথিভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন এবং কয়েকবার পুলিশি অভিযান চালান। কিন্তু দুইদিনের একটা ‘গ্যাপ’ থাকার কারণে আসামিরা গা ঢাকা দেয়। পরে এজাহারভুক্ত পাঁচ নাম্বার আসামি আমার বোন যে গাড়িতে ছিল সেই ড্রাইভারকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পরবর্তী সময়ে আমরা দেখতে পাই আসামিরা ঢাকাতেই বিভিন্ন জায়গায় আছে কিন্তু তাদের ধরার ব্যাপারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো গতি বিধি লক্ষ্য করছি না।’’

তিনি বলেন, অপরাধীরা সবাই ক্ষমতাসীন দলের লোক সেটা তাদের বড় পরিচর নয়। যারা অপরাধ করে তাদের কোনো দল নেই, তাদের কোন ধর্ম নেই, তাদের কোনো জাত নেই। তারা যে দল ক্ষমতায় আসে সে দলের ব্যানারকে কাজে লাগিয়ে অপরাধ করার পায়তারা করে থাকে। আমার বোন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে কিন্তু যারা গ্রাম-মফস্বল শহরে আছেন তাদের দাবি তো এ পর্যন্ত আসতে পারে না, তাদের আওয়াজ তো আমরা শুনতে পাই না।

‘‘সে (সিথী কিবরিয়া) তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রী। আমার বোন যেখানে নিরাপদ নয় সেখানে আমার অন্যান্য বোনেরা কিভাবে নিরাপদ? আমি এর সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাই এবং এর সাথে জড়িত তফিউজ্জামান জুয়েলের বিভাগীয় শাস্তির দাবি জানাই।’’

সিথী কিবরিয়ার সহপাঠী মো. গোলাম আজাদ বলেন, সিথী কিবরিয়া আমাদের বিভাগের প্রথম স্থান অর্জনকারী ছাত্রী। তার মতো একজন মেধাবী ছাত্রীর নিরাপত্তা যদি রাষ্ট্রও দিতে না পারে তখন আমরা বাধ্য হই রাস্তায় নেমে আসতে। আইন যদি আমাদের সহযোগিতা না করে সেক্ষেত্রে রাষ্ট্র আমাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। যতদিন পর্যন্ত না আমরা এর বিচার পাবো ততোদিন পর্যন্ত সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিবাদী কন্ঠ বন্ধ করবে না।

সিথী কিবরিয়ার আরেক সহপাঠী মিথা খাতুন বলেন, আমরা চাই সিথির সাথে যেটা হয়েছে এই ধরণের ঘটনা যেন অন্য কারও সাথে না হয়। আমরা চাই, অপরাধ ছোট বা বড় যে ধরনেরই হোক, এই অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা হোক। অপরাধীরা যেখানেই থাকুক তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি আমরা দাবি করছি।

নাট্যকলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর হাসান সৈকত বলেন, সিথিকে অপহরণের যে চেষ্টা করা হয়েছে সেটা কিন্তু ধর্ষণের চেষ্টা। এভাবেই কিন্তু ধর্ষণ হয়। আমরা ধর্ষণের প্রতিবাদ করি কিন্তু ধর্ষণ করার যে প্রক্রিয়া চালানো হয় তার প্রতিবাদ করি না। আমরা কেমন মানুষ?

বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গত বুধবার (০২ জানুয়ারি) লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা থানার দোয়ানী তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় হাতিবান্ধা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তফিউজ্জামান জুয়েলসহ সাত-আটজন যুবক সিথী কিবরিয়াকে নির্যাতন ও অপহরণের চেষ্টা করে।

বিষয়:অপহরণ মানববন্ধন

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…