দেশের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীদের সহাবস্থানের কথা আমরা সবসময় শুনে এলেও গত কয়েকদিন এর বিপরীত খবর পাওয়া যাচ্ছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, তুচ্ছ কারণে বুয়েট ক্যাম্পাসে সংঘাতের শুরু। এরপর বেশ কয়েকবার দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের উপর হামলার অভিযোগে সোমবার বুয়েটের শিক্ষার্থীরা আটদফা দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। এই বিক্ষোভ সমাবেশে তারা ক্লাস এবং সব ধরণের পরীক্ষা বর্জনেরও হুমকি দিয়েছে। তাদের উপর হামলায় আমরা অবশ্যই নিন্দা জানাই এবং প্রকৃত দোষীদের সনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার পক্ষপাতী। তবে একইসঙ্গে ঢাবি শিক্ষার্থীদের অভিযোগের দিকেও নজর দেয়া দরকার। পাশাপাশি দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা একে অন্যের ক্যাম্পাসে যাওয়া খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। এ কারণে কাউকে বহিরাগত বলে কারও উপর হামলার ঘটনা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এমনকি বুয়েট ক্যাম্পাসে একজন ছাত্রীকে নাজেহালের ঘটনাও ঘটেছে! এক্ষেত্রে ওই ছাত্রীর মানসিকতা প্রশংসার যোগ্য। তিনি ঢাবির শিক্ষার্থী বন্ধুকে নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠীদের হামলার মুখে ফেলে না গিয়ে রুখে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বন্ধুকে এভাবে রেখে হলে ফিরে যাবেন না বলে জানিয়েছেন। এ কারণে তাকেও বুয়েট শিক্ষার্থীদের হাতে নাজেহাল হতে হয়েছে। এটা গ্রহণযোগ্য নয়। একইভাবে এ কারণে আবার নিজের হলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বুয়েট শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালানোর বিষয়টিও আমরা সমর্থন করি না। দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দুই বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থীদের কাছে আমরা আরও সংযত এবং পরিপক্ক আচরণ আশা করি। এটা অবশ্য শুধু আমাদের আশা নয়, বরং দেশের সাধারণ মানুষও এমনটাই আশা করে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের রিপোর্ট বলছে, ঢাবি এবং বুয়েটের প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পেছনে বছরে গড়ে লক্ষাধিক টাকা খরচ করছে সরকার। যদিও বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চেয়ে টাকার এই অংক অনেক কম, তবুও শিক্ষার্থীদের মনে রাখতে হবে জনগণের কষ্টার্জিত টাকা তাদের পেছনে ব্যয় করা হচ্ছে দেশের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে, কোনভাবেই নিজেদের মধ্যে মারামারির মহড়ার জন্য নয়। সবাইকে শিশুতোষ আচরণ বন্ধ করে পড়ালেখায় মনোযোগী হতে আমরা আহ্বান জানাই।







