ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ঢাবি শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের আয়োজনে ” বাংলাদেশে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন: শিক্ষায় করণীয়, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা ” শীর্ষক দুইদিনব্যাপী সেমিনার শুরু হয়েছে। উদ্বোধনী অধিবেশনে শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান রাখায় সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
শনিবার সকালে নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে সেমিনারটি শুরু হয়। সেমিনার শেষ হবে আগামীকাল।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, আইইআর এর সঙ্গে আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ঠ। কারণ আমরা যা কিছুই করিনা কেন কখনো আমরা শিক্ষকদের অংশগ্রহণ ছাড়া কিছু করিনি। তারা সব ক্ষেত্রে অবদান রাখেন, পরামর্শ দেন। এজন্য আইইআর কে ধন্যবাদ জানাচ্ছি এবং আশা করছি ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকে। আজকে যে বিষয়ের উপর আলোচনা হচ্ছে, সেটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও যুগোপযোগী। আজ এই কনফারেন্সে যে সকল গবেষণা, সুপারিশ এবং নির্দেশনা দেওয়া হবে, তা আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দিন। এতে করে আমরা নতুন কোনো দিকনির্দেশনা পাবো।
তিনি আরও বলেন, আজকের আলোচনার বিষয় এসডিজি যা ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসডিজির চার নম্বর লক্ষ্যটি হলো শিক্ষা। সেখানে শিক্ষার গুণগত মান কি হবে এবং শিক্ষার আওতায় জাতি ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সকলকে আনার কথা বলা হয়েছে। শিক্ষার সার্বিক গুণগত মান উন্নয়নের জন্যে আমরা নানা ধরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিদ্যালয় থেকে শিশুদের ঝরে পড়া রোধ করতে ২০০৯ সাল থেকে প্রতিবছর প্রথম শ্রেণী থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত বিনামূল্যে বই বিতরণ করা হচ্ছে। এবছর শিক্ষার্থীদের মাঝে ৪২ লক্ষ ৯০ হাজার ১৬২ টি বই বিতরণ করা হয়েছে। আর্থিক কারণে যাতে কোনো শিক্ষার্থী ঝরে না পড়ে, এ জন্যে বৃত্তির সংখ্যা এবং পরিমাণ বৃদ্ধি করা করা হয়েছে। মেয়েদের জন্যে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া কারিগরি শিক্ষার উপর জোরদার করা হয়েছে। এখন মোট শিক্ষার্থীর ১৪ শতাংশ কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করছে। অনেক দেশের জনসংখ্যার চেয়ে আমাদের দেশের জনসংখ্যা অনেক বেশি। তাদের শিক্ষার সুযোগ প্রদান করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা এ লক্ষ্যটি নির্ধারিত সময়ের তিন বছর আগে অর্জন করেছি।
উদ্বোধনী অধিবেশনের সভাপতির বক্তব্য শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক সৈয়দা তাহমিনা আক্তার বলেন, দুইদিনব্যাপী এ কনফারেন্স এ ১১৩টি শিক্ষা বিষয়ক মৌলিক গবেষণা উপস্থাপন করা হবে। যার মধ্য দিয়েই উঠে আসবে বাংলাদেশে টেকসই উন্নয়নে শিক্ষার ভূমিকা, শিক্ষাক্ষেত্রে করণীয় এবং শিক্ষা ক্ষেত্রের সম্ভাবনা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিরেটাস অধ্যাপক ড. মঞ্জুর আহমেদ, ইউনেস্কোর ঢাকা অফিসের প্রধান মিসেস খালদুন, ইউজিসি’র সদস্য অধ্যাপক ড. মো. ইউসুফ আলী মোল্লা, শিক্ষাসচিব মো. সোহরাব হোসেইন, একুশে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. শরীফা খাতুন সহ অনেকে।









