ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের পুকুরে সাঁতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন ওই হলের আবাসিক শিক্ষার্থী পলাশ আহমেদ। মৃত পলাশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি জহুরুল হক হলের (বর্ধিত) ৩০১৪ নম্বর কক্ষে থাকতেন।
রোববার বেলা সাড়ে ১২ টার সময় হলের পুকুরে ডুবে যান পলাশ। পরে দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিজ হলের মাঠে জানাজা শেষে সন্ধ্যা ৬ টায় মরদেহ নিয়ে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন পলাশের স্বজনরা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, দুপুরে হলের মাঠে ফুটবল খেলার পর ক্লান্ত অবস্থায় গোসল করতে পুকুরে নামেন পলাশ। শুরুতে মেইন বিল্ডিংয়ের পাশের সিড়ি দিয়ে পুকুরে নামলেও একসময় সাঁতরে পুকুরের বাম পাশে চলে আসেন তিনি। এইসময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যান। তার অবস্থা দেখে আশেপাশের শিক্ষার্থীদের কয়েকজন তাকে উদ্ধারের জন্য পুকুরে নামেন। প্রায় ১০ মিনিট পর তাকে উদ্ধার করা হয়। এরপর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার সময়ে পুকুরে গোসল করছিলেন পলাশের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহপার্ঠী নাফিউল হুদা। তিনি বলেন, ‘আমরা একসাথেই পুকুরে গোসল করছিলাম। সাঁতার কাটতে গিয়ে পলাশ অন্য পাশে চলে যায়। সেখান থেকে ফিরে আসার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হঠাৎ করেই ডুবে যায় ও। ঘটনার আকস্মিকতায় করণীয় বুঝে উঠতে পারছিলাম না। সাহায্য চেয়ে চিৎকার শুরু করলে কয়েকজন দ্রুত পুকুরে নেমে আসেন।’
‘পলাশকে উদ্ধার করতে আমাদের ১০ মিনিটের মতো সময় লেগেছে। পরে ওকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। আমার বন্ধুর অনেক স্বপ্ন ছিল বিসিএস ক্যাডার হওয়ার। একসাথে পড়তাম আমার। ও বলতো ওর ম্যাথ ভালো লাগে। কোথা থেকে কী হয়ে গেলো!’
এ বিষয়ে জহুরুল হক হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. রহিম বলেন, পলাশ পুকুরে ডুবে গেলে শিক্ষার্থীরা তাকে উদ্ধার করে ১টার দিকে মেডিকেলে নিয়ে আসেন। লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার পরিবারকে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত করা হয়েছে।’







