পদ্মাসেতু নির্মাণের অর্থায়নে বিশ্বব্যাংকের দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ার পর এবার আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দায়ী করেছেন। পদ্মা সেতুতে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধের ষড়যন্ত্রে ড. ইউনুস যুক্ত ছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। দুর্নীতির অভিযোগে ক্ষতিগ্রস্তদের আইনী পরামর্শ নেয়া উচিত বলেও অভিমত তার। ‘বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে মামলা করার সুযোগ নেই’ বলেও মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডি আর ইউ) এর সাগর রুনী মিলনায়াতনে ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম (এল আর এফ) আয়োজিত ‘মিট দ্যা প্রেসে’ এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
তিনি বলেন, পদ্মা সেতু বিষয়ে কানাডার আদালতের রায়ের পর বাংলাদেশের মর্যাদা বেড়ে গেছে। আমরা যে কারো কাছে মাথা নত করি না তা প্রমান হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি আশুতোষ সরকার ও সাধারন সম্পাদক দিদারুল আলম দিদারসহ আদালত বিটে কাজ করা সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্প্রতি কানাডার আদালতের রায়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা নোবেলজয়ী ড. ইউনূসের প্রতি অভিযোগের আঙ্গুল তুলে বক্তব্য দিয়েছেন।
পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্র থাকার ব্যাপারে বিশ্বব্যাংকের অভিযোগকে ‘গাল-গল্প ও গুজব’ মন্তব্য করে শুক্রবার রায় দেয় কানাডার আদালত। এই অভিযোগ তুলেই ঋণ বাতিল করেছিল বিশ্বব্যাংক। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এই মামলার তিন আসামিকে খালাস দেয়া হয়।
দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন না করলেও থেমে নেই পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ। নিজস্ব অর্থায়নেই এই বিশাল নির্মাণযজ্ঞের এখন পর্যন্ত ৪০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে বলে গতকাল ( ১৩ ফেব্রুয়ারি) জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ২০১৮ সালের শেষের দিকে ‘সচ্ছতার মধ্য দিয়ে’ পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, সোমবার নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালার গেজেট প্রকাশে আবারও ২ সপ্তাহ সময় বেধে দেয়া হয় সরকারকে। অ্যাটর্নি জেনারেলের করা ২ সপ্তাহের সময় চেয়ে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আট বিচারপতির আপিল বেঞ্চ বিধিমালার গেজেট প্রকাশের জন্য ২ সপ্তাহ সময় দেন।
এর আগের দিন রোববার আচরণবিধির গেজেট করতে কেন সময় দরকার, তার কারণ সোমবার লিখিতভাবে জানাতে রাষ্ট্রপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিল আপিল বিভাগ।








