পাঁচ দিনের টেস্ট ম্যাচের শেষ দু’দিন ভেসেছে বৃষ্টিতে। দর্শকদের হতাশা ম্যাচের শেষ মুহূর্তের ক্লাইমেক্স দেখতে না পারার। ব্যাট-বলের লড়াইয়ের শেষ পর্বে অংশ নিতে না পারার আক্ষেপ দুই দলের। এই ম্যাচ বাংলাদেশ দলকে দিয়েছে টেস্ট ক্রিকেটে সাউথ আফ্রিকার সঙ্গে প্রথম ড্র করার তৃপ্তি, সেরা আর দীর্ঘতম ইনিংস খেলার গৌরবও।
র্যাংকিং-এর শীর্ষ দলের সঙ্গে ড্র করায় নবম স্থানে থাকা টাইগারদের রেটিং-এ যোগ হবে বড় মাপের পয়েন্ট, যদিও সেই পয়েন্ট অষ্টম স্থান থেকে হটাতে পারবে না ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। চট্টগ্রাম টেস্ট ড্র হওয়ায় তাই ক্ষতি হলো কার, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে ধাঁধাঁয় পড়তে হচ্ছে।
প্রথম ইনিংসে ৭৮ রানের লিড পাওয়া বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের কণ্ঠে সব হারানোর ব্যথা: ‘শেষ দু’দিন খেলা হলে অন্যকিছু হতে পারতো। মাঠে নামতে সবাই ব্যকুল হয়ে ছিলো। এমন সুযোগ বারবার আসে না। এক নম্বর দলের বিরুদ্ধে এমন পারফরম্যান্স আগামী অনেক দিন আমাদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।’
অবাক হবেন না হাশিম আমলার কথায়: স্বীকার করছি প্রথম দুই দিন একটু পিছিয়ে পড়েছিলাম। তবে তৃতীয় দিনে পরিস্থিতি পাল্টে দিয়েছিলাম। দ্বিতীয় ইনিংসে আমরা আড়াইশো রানের লিড নিতে পারলেই কঠিন চ্যালেঞ্জে পড়ে যেতো বাংলাদেশ। ’
শেষ দু’দিনের খেলায় কি হলে কি হতো সেই ধাঁধার উত্তর না খুঁজেও বলে দেয়া যায়, টেস্টেও বাংলাদেশের উন্নতির গ্রাফ উর্ধ্বমুখী। টানা ২৩ টেস্ট আর ১৬ টেস্ট সিরিজ হারার নজির গড়া বাংলাদেশ গত এক বছরে খেলা ১১ টেস্টের তিনটিতে জিতেছে, ড্র করেছে চারটিতে, বাকি মাত্র চারটিতে হার।
লাল বল আর সাদা পোষাকের ক্রিকেটে লাল-সবুজের উন্নতির সূচক এই এক পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট। সঙ্গে পরিসংখ্যান বা রেকর্ড বইয়ে নাম উঠিয়ে আবারো তোলপাড় আরেক বাংলাদেশীর। মুস্তাফিজে ক্রিকেট দুনিয়া দেখছে বিশ্বমাপের এক ক্রিকেট প্রতিভার।
তবে প্রশংসা, আত্মতৃপ্তির চাইতেও চট্টগ্রাম টেস্টের পারফরম্যান্স ‘টিম-টাইগার্সে’র’ জন্য সতর্ক সংকেত, ওয়েক আপ কলও বটে।
টেস্ট সিরিজে বড় দলের সঙ্গে দূর্দান্ত লড়াইয়ে ড্র করার পরের ম্যাচেই বড় ব্যবধানে হারার ঘটনা এর আগে কয়েকবার ঘটিয়েছে বাংলাদেশ দল। ২০০৬’এ অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ফতুল্লায় প্রথম টেস্ট ড্র করার পর চট্টগ্রামে দ্বিতীয় টেস্টেই বাংলাদেশকে সইতে হয় ইনিংস হারের গ্লানি।
আর এপ্রিলে খুলনায় পাকিস্তানের সঙ্গে ড্র করার পরের ম্যাচে ঢাকায় বাংলাদেশ হেরে গিয়েছিলো ৩২৮ রানে। ২০১৩’র মার্চে শ্রীলংকায় অ্যাওয়ে সিরিজে গলে প্রথম টেস্ট ড্র করার পর দ্বিতীয় টেস্টে ‘টিম-টাইগার্সে’র বিপর্যয়, ৭ উইকেটের হার।
এবার সাউথ আফ্রিকার সঙ্গে প্রথম টেস্ট সমানে সমান লড়ে ড্র করার পর অধিনায়ক মুশফিকুরের কণ্ঠে সতর্ক আশাবাদ: এই টেস্টের পজিটিভ দিকগুলো নিয়ে যাচ্ছি ঢাকায়।
নিশ্চয়ই সেরা দলের বিরুদ্ধে সিরিজের শেষ টেস্ট খেলতে নামার আগে মাঠের অনুশীলন ও প্রস্তুতির বাইরে পরিসংখ্যানের দিকেও একবার চোখ বোলাবে হাথুরুসিংহ-মুশফিকুর রহিম কিংবা তাদের দল।
ইতিহাসের দিকে তাকিয়ে শিক্ষা নেয় যারা তাদের পক্ষেই সম্ভব নতুন ইতিহাস গড়া। গত কয়েকমাসে একের পর এক সাফল্য’র দেখা পাওয়া ‘টিম-টাইগার্স’র নিশ্চয়ই অজানা নয় ইতিহাসের এই শিক্ষা।







