খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনিয়নের অভিযোগ থাকলেও সামনের দিনগুলোতে সরকারের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হবে না – বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলছেন: অভিযোগের বিপরীতে নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নিয়েছে। চাইলে নির্বাচন কমিশন আরও ভালো নির্বাচন অনুষ্ঠানে নজর দিতে পারে। এক্ষেত্রে সরকার সব ধরনের সহযোগীতা করবে।
রোববার সকালে রাজধানীর বনানীস্থ সেতুভবনে তার সঙ্গে বাংলাদেশের নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত শেষে এসব কথা বলেন তিনি।
ওবায়দুল কাদের বলেন: গাজীপুরকে তারা অনিয়ম বলছে, খুলনা সম্পর্কে তাদের কিছু অভিযোগ রয়েছে। কিছু অনিয়মের বিষয়েও তারা বলেছে। সামনের নির্বাচনগুলোতে এসব অনিয়মগুলো দূর করতে সরকারের অবস্থানও জানতে চেয়েছেন।
‘এসব বিষয়ে সরকার বরাবরই একই অবস্থানে আছে। অনিয়ম যেখানে, সেখানে তো নির্বাচন কমিশন, খুলনায় যা হয়েছে ব্যবস্থা নিয়েছে, গাজীপুরেও ব্যবস্থা নিয়েছে। তারা যদি আরও অন্য কোন অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত করতে চায়, সেটা নির্বাচন কমিশনের ওপর নির্ভর করে। এ অধিকার নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচন কমিশন চাইলে তদন্ত করতে পারে।’
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন: ‘মার্কিন রাষ্ট্রদূত গাজীপুর সিটি করপোরেশন নিয়ে যে কথা বলেছেন, সে বিষয়ে আমাদের কথা বলা উচিত। আমি বিষয়টিকে তাকে এমনভাবে বলেছি, আমাদের দু’দেশের জনগণের মধ্যে কোন বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়, বন্ধুত্বের মধ্যে কোন ধরনের ফাটল ধরে-এমন কিছু না হলেই ভালো।’
‘আমি ডিপ্লোমেটিক ওয়েতেই কথাগুলো বলেছি। এখানে আমেরিকাকে অ্যাটাক করে, ওয়াশিংটনকে অ্যাটাক করে বা ওয়াশিংটনের রাষ্ট্রদূতের ভূমিকাকে কোন প্রকার সমালোচনা আমি করতে যাইনি। আমি বলেছি, দু’দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্কটা কিংবা বন্ধুত্বের সম্পর্কে ছেদ হয় এসব কিছু থেকে আমাদের বিরত থাকা উচিত।’
কাদের যোগ করে বলেন, ‘দেখুন আমরা কিন্তু পৃথিবীর অন্যান্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে, ওয়াশিংটনের নিজস্ব বিষয় নিয়ে কখনও কথা বলিনি। আমরা কখনও কোন মন্তব্য করি না। আমি আমাদের কথাটাই শুধু বলেছি। আমাদের মধ্যে এ প্র্যাকটিস আছে- যে বন্ধুদেশের রাজনৈতিক বিষয় হোক বা অর্থনৈতিক-সামাজিক সাংস্কৃতিক যে বিষয়ই হোক; অন্যদেশ হিসেবে আমাদের নাক গলানো সমীচীন মনে করি না।’
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক তুলে ধরে সেতুমন্ত্রী বলেন, সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোন বিতর্কে আমি যেতে চাই না। আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক সুদৃঢ়। রোহিঙ্গা সঙ্কটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন মানবিকতার দরজা খুলে দিয়েছিলেন; তখন থেকেই ওয়াশিংটন আমাদের পাশে রয়েছে।
‘রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে গিয়ে বাংলাদেশ সংকটে পড়েছে। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই মানবিক ভূমিকা পালন করছে। আমরা পরিবেশগত-অর্থনৈতিক বিভিন্নভাবে আমরা আক্রন্ত হচ্ছি। এগুলো মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন আমাদের শক্তি ও প্রেরণা যোগাচ্ছে। বন্ধুদেশ হিসেবে তাদের এ সমস্ত উদ্যোগ আমরা ডিপলি অ্যাপ্রিশিয়েট করি। রোহিঙ্গা ইস্যুতে এখনও যুক্তরাষ্ট্র তাদের ভূমিকায় অটল। এবং অন্যান্য ক্ষেত্রেও আমাদের সম্পর্ক শক্তিশালী হচ্ছে। কাজেই আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কে আমাদের কোন ঘাটতি নেই।’
বৈঠক শেষে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বলেন, ‘আমরা উভয় দেশই গণতন্ত্রে বিশ্বাসকরি। আমাদের দেশের সংবিধান কথা বলার স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিয়েছে। দেশের জনগণের মতোই যুক্তরাষ্ট্রের কর্মচারীদেরও যেকোন বিষয়ে কথা বলার স্বাধীনতা রয়েছে। আমরা আলোচনার মাধ্যমে সকল কিছুর সমাধান আসবে এমনটা বিশ্বাসকরি।
‘ওয়াশিংটন কখনও আলোচনার দরজা বন্ধ করে না। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। এটা যেকোন শাসন ব্যবস্থা থেকে ভালো।’








