দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচন হচ্ছে না। ডাকসু নির্বাচন নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি থাকলেও এ ব্যাপারে নিশ্চুপ কর্তৃপক্ষ। হাইকোর্টের রিট ও রাষ্ট্রপতির ভাষণেও উঠে এসেছে ডাকসু নির্বাচনের বিষয়টি। ডাকসু নির্বাচন না হওয়ায় সিনেটে শিক্ষার্থীদের কোন প্রতিনিধি না থাকায় উপাচার্য নির্বাচন বিষয়ে ক্যাম্পাসে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে গেছে। ডাকসু নির্বাচন দাবিতে ক্যাম্পাসে ‘সাইকেল মিছিল’ করেছে আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শুধু মিছিলে সীমাবদ্ধ না, ডাকসুর দাবিতে ইসলামি ছাত্রশিবির বাদে সব ছাত্র সংগঠনের নেতাদের নিয়ে তার্ উন্মুক্ত আলোচনার আয়োজন করেছিল। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় ডাকসু ভবনে ছিল সেই আলোচনা অনুষ্ঠান। ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বাভাবিকতা বজায় রাখার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ বড় দলগুলোর ছাত্র সংগঠনের, দু:খজনক হলেও তারা সে বিষয়ে অজ্ঞাত কারণে নিশ্চুপ। এই অবস্থায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে আলোচনায় অংশ নিতে ক্যাম্পাসে আসা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ধাওয়া ও মারধরের মুখে পালিয়ে যায়। শুধু তাই নয়, ছাত্রলীগও ওই আলোচনায় অংশ নেয়নি। ডাকসু নির্বাচন যেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি, সেখানে বড় দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যেকার এই অনাকাঙ্খিত ঘটনা এই নির্বাচন বিষয়ে সংঘবদ্ধ দাবির পদক্ষেপে বাঁধা। বিষয়টি খুবই নিন্দনীয় বলে বলে আমরা মনে করি। তারপরেও ওই আলোচনায় অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের দুই অংশ, বাসদ (খালেকুজ্জামান) সমর্থিত সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বাসদ (মার্ক্সবাদী) সমর্থিত সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাসহ বিভিন্ন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী। প্রশাসন ও বড়সংগঠনগুলোর দায়িত্বপূর্ণ ও কার্যকর পদক্ষেপ না থাকলেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের পদক্ষেপ ও দাবিকে আমরা সাধুবাদ জানাই। আমাদের আশাবাদ যথাযথ কর্তৃপক্ষ দ্রুত ডাকসু নির্বাচনের বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে।









