‘যারা দেশের টাকা লুটপাট করে খাচ্ছে তাদের কিচ্ছু করতে পারছে না, স্বল্প আয়ের মানুষের দিকে দৃষ্টি দিয়েছে সরকার, কারণ তাদের এখন আর ভোট লাগে না- ভোট এমনি হয়ে যায়।’
-এসএসসি পরীক্ষা হচ্ছে। কেন্দ্রের সামান্য দূরে ফুটপাতে বসে পত্রিকা পড়ে একজনের এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ।
পত্রিকা এবং অনেক অনলাইনের শিরোনাম হয়েছে ডাকঘর সঞ্চয় কর্মসূচির সুদের হার কমিয়ে অর্ধেক করেছে সরকার। শীর্ষ দৈনিকের শিরোনাম এরকম-‘নয়-ছয়’-এর প্রথম ধাক্কায় সুদ কমল ডাকঘর সঞ্চয়ের।
খেদোক্তি প্রকাশ করা ওই ব্যক্তির পাশে বসা আরেকজন বললেন: ঋণখেলাপিদের কিছু করতে পারছে না সরকার। ব্যাংক লুটকরাদের কোনো বিচার হচ্ছে না। সাধারণ মানুষের ওপর যত নজরদারি।
পাশে বসা আরেকজন বললেন: ঋণখেলাপিদের কিছু করবে কিভাবে? ওইসব চোরবাটপারদেরই তো বসানো হয়েছে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে। তারাই সিদ্ধান্ত দেয় ঋণখেলাপিদের প্রণোদনা দিয়ে কিভাবে আরো চুরি করার পথ বাতলে দেয়া যায়।
এরপরের কথাগুলো আর না লেখাই ভালো।
অর্থনীতির অবস্থা খুবই খারাপ বোঝা যাচ্ছে কয়েক বছর ধরেই। যারা অর্থনীতি নিয়ে গবেষণা করেন তাদের অনেকের বক্তৃতা আর বিবৃতি থেকে যা বোঝা যায় তাতেই মনে হচ্ছে এমন একটা সময় সামনে আসছে যখন সাধারণ মানুষ ব্যাংকে গিয়ে তার আমানতের টাকাটা তুলতে গিয়ে ফেরত চলে আসবে। কারণ ব্যাংকে টাকা থাকবে না। তখন মুনাফা তো দূরের কথা আসল টাকাটা তুলে আনার ধুম পড়ে যাবে। অনেকটা ওই প্রবাদ বাক্যের মতো অবস্থা- ভিক্ষা চাই না কুত্তা সামলা।
এ রকম অবস্থার পেছনে যথেষ্ট কারণও ব্যাখা আছে। কারণ জনগণের করের টাকা প্রতিবছর ব্যাংকে দেয়া হচ্ছে। সেই টাকা ঋণ নিয়ে প্রভাবশালীরা বেমালুম উদাস হয়ে যাচ্ছে। তাদের ধরার ব্যাপারে উদাসীনতা কিছুটা হলেও দেখা যায়। কোনো না কোনোভাবে তারা সরকারের সাথে জড়িত থাকে।
মানুষ কোথায় তদের সঞ্চয়ের টাকা খাটাবে? বিশেষ করে পেনশনভোগী বয়স্ক মানুষ, বিধবা নারী। সারাজীবনের সঞ্চয়কৃত টাকা শেয়ারবাজারে খাটালে সব যাবে। সঞ্চয় কর্মসূচিতে রেখে একবারে মুনাফা তুলে সংসার চালানো যায়।
সাধারণ মানুষের বিষয়টি নজরে না নিয়ে একবারে ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমের হার অর্ধেক করাটা কতটা যৌক্তিক হয়েছে সেটা অর্থনীতিবিদরাই ভালো বলতে পারবেন। তবে সাধারণ মানুষের ভেতর যে প্রতিক্রিয়া তাও সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলকে অনুধাবন করতে হবে। কারণ তা না হলে সাধারণ মানুষের ভেতরে সরকারের প্রতি যে বিরূপ ধারণা তৈরি হচ্ছে একে একে-সেটা ধীরে ধীরে ফুঁসে উঠতেও পারে।
বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বর্ষে তার একটি উক্তি স্মরণ করা যাক-‘আমি যে সুখী ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছি, সেই বাংলাদেশ এখনো আমার স্বপ্নেই রয়ে গেছে, গরিব কৃষক ও শ্রমিকের মুখে যতদিন হাসি না ফুটবে, ততদিন আমার মনে শান্তি নাই, এই স্বাধীনতা আমার কাছে তখনি প্রকৃত স্বাধীনতা হয়ে উঠবে, যেদিন বাংলাদেশের কৃষক, মজুর ও দুঃখি মানুষের সকল দুঃখের অবসান হবে। তাই আসুন, সংগ্রাম ঘোষণা করি চোরাচালানী, কালোবাজারী, অসৎ ব্যবসায়ী, দুর্নীতিবাজ ও ঘুষখোরদের বিরুদ্ধে।’
ঋণখেলাপি আর ব্যাংক লুটপাটকারীদের ব্যাপারে সোচ্চার হবেন বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আমরা এই আশা তো করতেই পারি।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)








