একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য আর কর্মকাণ্ডে যখন বিধ্বস্ত তখন আরো একটি মারাত্মক অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান দলের মনোনীত প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিতর্কিত এই ধনকুবেরের বিরুদ্ধে নোংরাভাবে গায়ে হাত ও অসম্মতিতে চুমো খাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন দুই নারী। তবে ট্রাম্পের ক্যাম্পেইনের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে।
মার্কিন দৈনিক দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ট্রাম্পের সাথে সাক্ষাতের সময় জেসিকা লিডস ও র্যাচেল ক্রুকস নামের দুই নারীর গায়ে তাদের অসম্মতিতে হাত দিয়েছেন এবং চুমো খেয়েছেন। যার একটি ঘটনা ঘটেছে ২০০৫ সালে, অন্যটি তিন দশক আগে।
গত সপ্তাহের শুক্রবার ট্রাম্পের ২০০৫ সালের একটি অডিও-ভিডিও টেপ ফাঁস করে ওয়াশিংটন পোস্ট। তাতে তার যৌন জীবনের গোপন কথা বেরিয়ে আসে। তিনি স্বীকার করেন, তিনি একজন বিবাহিত নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য বেপরোয়াভাবে চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছেন।
তারপর দ্বিতীয় প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্ক হয়। সেখানে তিনি স্বীকার করেন, অনুমতি ছাড়াই তিনি নারীদের চুমু দেয়ার পক্ষে। তাদের স্পর্শকাতর অঙ্গে হাত দেয়ার পক্ষে। কিন্তু এসব জিনিস তিনি নিজে কখনও করেন নি।
কিন্তু ট্রাম্প যখন সেন্ট লুইসে এসব কথা বলছিলেন তখন ম্যানহাটানের বাসায় বসে অস্থির হয়ে উঠছিলেন ৭৪ বছর বয়সী জেসিকা লিডস। তিনি মনে করছিলেন, তার মুখের ওপর ট্রাম্প মিথ্যা কথা বলছেন। নিজের এপার্টমেন্টে দেয়া সাক্ষাতকারে তিনি বলেছেন, আমার তখন মনে হচ্ছিল টিভির স্ক্রিনে ঘুষি মারি।
এই ঘটনার পরই দুই নারী ট্রাম্পের বিরুদ্ধে গায়ে হাত দেয়ার অভিযোগ আনলেন।
তবে এক বিবৃতিতে ওই অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে ট্রাম্পের নির্বাচনী ক্যাম্পেইন। তারা এই অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেছেন।
ট্রাম্পের নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের মুখপাত্র জেসন মিলার বলেন, ‘আমি মনে করি বিশ্বের অন্যতম স্বীকৃত একজন ব্যবসায়ী নেতা যিনি নারীর ক্ষমতায়নের শক্তিশালী ভূমিকা রয়েছে তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ হাস্যকর ও অযৌক্তিক।’
ট্রাম্প নিজেও নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদককে বলেছেন, ‘এর কোনো কিছুই ঘটেনি।’
বর্তমানে ৭৪ বছর বয়সী জেসিকা লিডসের বয়স ছিল তখন ৩৮। তিনি বলেন, ‘তখন ম্যানহাটান থেকে ব্যবসার কাজে যাচ্ছি নিউ ইয়র্ক। উঠেছিলাম ফার্স্টক্লাস কেবিনে। তার পাশের সিটেই ট্রাম্প। ফ্লাইট উড্ডয়নের ৪৫ মিনিটের মধ্যে ট্রাম্প তার আর্মরেস্ট(সিটের হাতল) উঠিয়ে দিয়ে স্পর্শ করা শুরু করেন। ট্রাম্প আমার বুক স্পর্শ করেন। স্কার্টের ভিতর দিয়ে হাত প্রবেশ করানোর চেষ্টা করেন। সেদিন ট্রাম্পের আচরণ ছিল একটা অক্টোপাসের মতো। সেটা একটা হামলা ছিল।’
তিনি আরো বলেন, ট্রাম্প স্পর্শ করার পর রাগে ও দুঃখে আমি ফাস্টক্লাস আসন ছেড়ে বিজনেস ক্লাসে চলে যাই।
নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকাকে অপর নারী রাচেল ক্রুকস বলেন, ২০০৫ সালে ট্রাম্প টাওয়ারে ট্রাম্প তাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ঠোটে চুমো খান। তিনি বলেন, আমি তখন এতোই বিমর্ষ ছিলাম আর ভাবছিলাম সে এটা কীভাবে করতে পারলো।
রাসেল কুকস বলেন, এটা কোনো দুর্ঘটনা ছিল না। এটা ছিল অপরাধ। এটা ছিল ভীষণ অনুচিত। আমি ভীষণ হতাশ হয়ে পড়েছিলাম।
দুই নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনকে পুরোপুরি বানানো গল্প বলে অভিহিত করেছে ট্রাম্পের প্রচার শিবির। তারা বলছে, পত্রিকাটি ট্রাম্পের চরিত্র হনন করছে।
মিনডি ম্যাকগিলিভরে নামের এক নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে পাম বিচ পোস্ট ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অন্য এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৩ সালে এই নারীকে বাজেভাবে স্পর্শ করেছিলেন ট্রাম্প। এ ঘটনায় তিনি ভড়কে গিয়েছিলেন।
মিস ওয়াশিংটন ২০১৩ ক্যাসান্ড্রা সার্লসের অভিযোগ প্রকাশ করেছে ইয়াহু নিউজ। এই নারীও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। এছাড়া ট্রাম্পে বিরুদ্ধে সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া নারীদের কাপড় পাল্টানোর সময় তাদের ঘরে প্রবেশের অভিযোগও আছে।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা তিন নারীই এখন হিলারি ক্লিনটনের নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে কাজ করছেন। তবে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনকে ‘বিরক্তিকর’ উল্লেখ করে হিলারি শিবির বলেছে, নারীর প্রতি ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল।









